
কলকাতা, ১৬ মার্চ (হি.স.): হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন সমাজ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। লেখেন:
জয় হরিবল
জয় হরিচাঁদ, জয় গুরুচাঁদ
মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীর পুণ্যলগ্নে, মহাবারুণী, পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে তাঁকে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম। এই উপলক্ষে আমি সমগ্র বিশ্বের সকল সাধু, গোঁসাই, দলপতি, মতুয়াভক্তবৃন্দ সহ সকলকে জানাই আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ভালোবাসা। এটা আমাদের গর্ব যে তাঁকে সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্মদিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
'হাতে কাম, মুখে নাম'— এই মহান মন্ত্রের মধ্য দিয়ে এই পতিতপাবন মহামানব আমাদের শিখিয়েছেন কর্ম ও ভক্তির সমন্বয়। শোষিত, বঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। মতুয়া সম্প্রদায়ের আত্মিক ও সামাজিক উত্তরণে তাঁর প্রদর্শিত পথ আমাদের কাছে আলোর দিশারী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মতুয়া মহাসংঘ সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তাঁর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের দেখানো পথে, মতুয়া সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য আমরাও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
ঠাকুরনগরে, ঠাকুরবাড়ির কাছাকাছি হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন ক্যাম্পাস। গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ করা হয়েছে।
পানীয় জলের জন্য হাবড়া-গাইঘাটা – ‘জলতৃপ্তি’ জল প্রকল্প করা হয়েছে। ইছামতী নদীর ওপর মুড়িঘাটা ব্রিজ ও বলদেঘাটা খালের ওপর কুঠিপাড়া নাগবাড়ি ব্রিজ তৈরী করা হয়েছে। গাইঘাটায় নতুন ITI ও Polytechnic কলেজ করা হয়েছে। গাইঘাটায় হয়েছে কিষাণ মান্ডি। ঠাকুরনগরের বিখ্যাত ফুলবাজার ও ফুল-চাষীদের কথা মাথায় রেখে ওখানে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঠাকুরনগরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
আমাদের সরকার অসামান্য সামাজিক অবদানের জন্য বড়মা'কে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান 'বঙ্গবিভূষণ'-এ ভূষিত করেছে।
শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর যে লড়াইয়ের সূচনা করেছিলেন, তা ছিল মানুষের আত্মসম্মান ও মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই। আজ বড়ই বেদনার সঙ্গে দেখছি, সেই পবিত্র সংগ্রামকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে তারা আসলে মানুষের নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে। যারা যুগ যুগ ধরে এই মাটির সন্তান, যারা এ দেশের প্রকৃত নাগরিক, তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চক্রান্ত আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না।
মতুয়া ভাই-বোনেদের অধিকার রক্ষায় আমি অতীতেও পাশে ছিলাম, আজও আছি এবং ভবিষ্যতেও অতন্দ্র প্রহরীর মতো লড়াই চালিয়ে যাব। মনে রাখবেন, বাংলার মাটিতে মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আমি কাউকে দেব না।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ