
আগরতলা, ১৬ মার্চ (হি.স.) : ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-কে ৯১৮.৮২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় ৬.৩৪ শতাংশ বেশি। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
এদিন বিধানসভায় ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য মোট ৩৪ হাজার ২১২.৩১ কোটি টাকার ব্যয় বরাদ্দের বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট একটি সুন্দর ও জনমুখী বাজেট। তিনি এর জন্য অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তাঁর কথায়, এবারের বাজেটে মোট অর্থরাশির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৫.৫২ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন তথা মূলধনী ব্যয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে মূলধনী খাতে ব্যয় ছিল ৭ হাজার ৯০৩.২৬ কোটি টাকা। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮ হাজার ৯৪৫.৯২ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩.১৯ শতাংশ বেশি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে টিটিএএডিসিকে ৯১৮.৮২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে গত অর্থবর্ষে বরাদ্দ ছিল ৮৬০.২১ কোটি টাকা। এছাড়া ট্রাইবাল সাব-প্ল্যান (টিএসপি) খাতেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত অর্থবর্ষে এই খাতে ৭ হাজার ১৪৮.৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা এবার বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫৪২.০৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এই খাতে বরাদ্দ ৫.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি একটি করহীন বাজেট। খাতভিত্তিক বরাদ্দের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে ২ হাজার ৪৪১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫.২৯ শতাংশ বেশি। গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৯০৪.৫৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৭.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া কৃষি খাতে ১ হাজার ৯৮৫.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেটের তুলনায় ৫.৩১ শতাংশ বেশি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ