চলতি মার্চ মাস কলোরেক্টাল ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত, সচেতনতা জরুরি রোগ প্রতিরোধে বললেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা
কলকাতা, ১৭ মার্চ (হি.স.) : মার্চ মাস হলো কলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস। কলকাতা শহরের মাত্র ৯.৩ শতাংশ বাসিন্দা “মলের সঙ্গে রক্ত” পড়াকে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সতর্কতামূলক লক্ষণ হিসেবে চিনতে পেরেছেন। একটি সমীক্ষা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এই সতর্কতার বা
প্রেস ক্লাব কলকাতায় সচেতনতা বাড়াতে চর্চা


কলকাতা, ১৭ মার্চ (হি.স.) : মার্চ মাস হলো কলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস। কলকাতা শহরের মাত্র ৯.৩ শতাংশ বাসিন্দা “মলের সঙ্গে রক্ত” পড়াকে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সতর্কতামূলক লক্ষণ হিসেবে চিনতে পেরেছেন। একটি সমীক্ষা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এই সতর্কতার বার্তা সর্বস্তরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

​ভারতের ১৪টি শহরে পরিচালিত ‘জীবনীশৈলী ও হজম স্বাস্থ্য সচেতনতা সমীক্ষা’ জনসাধারণের সচেতনতার এক বিশাল ফাঁক বর্ণনা করেছে। এর প্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের বক্তব্য—ভারতে হজম সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে দ্রুততম জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক শ্রমহীন জীবনযাপন এর জন্য প্রধানত দায়ী। তবুও কলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো গুরুতর অন্ত্রগত রোগ সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা খুবই কম। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে, ‘মারেক স্পেশালিটিস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা দেশব্যাপী “জীবনীশৈলী ও হজম স্বাস্থ্য সচেতনতা সমীক্ষা” পরিচালনা করে। এর ফলশ্রুতিতেই উঠে আসে নানা তথ্য। মানুষের মধ্যে হজম সংক্রান্ত উপসর্গ যেমন—অনিয়মিত মল, অ্যাসিডিটি, মলয় রক্ত ইত্যাদি কীভাবে বোঝা হচ্ছে এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হচ্ছে, তা এই সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হয়েছে।

​সমীক্ষার এই ফলাফল কলকাতায় উদ্বেগজনক ছবি তুলে ধরেছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৬৬ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে মাত্র ৯.৩ শতাংশ মলের সাথে ক্ত আসাকে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সতর্কতামূলক লক্ষণ হিসেবে চিনেছেন, যা সমীক্ষার আওতাধীন শহরগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন। ৯১.৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মলের অভ্যাসে পরিবর্তন হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে বিলম্ব করেন। ৭৫.৭ শতাংশ অনিয়মিত মল সমস্যার কথা জানিয়েছেন এবং ৪৪.১ শতাংশ তামাক ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন—যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

​জাতীয় স্তরে ২৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ১০,১৯৮ জন অংশগ্রহণকারীর থেকে জানা গেছে, ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ হজম সমস্যায় নিজেরাই ‘ওভার-দ্য-কাউন্টার’ ওষুধ বা স্ব-চিকিৎসা করেন, চিকিৎসকের কাছে যান না। ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন বাইরে বা তৈরি খাবার খান এবং মাত্র ৪৫.২ শতাংশ নিয়মিত ব্যায়াম করেন। ৮০ শতাংশের বেশি লোক জানে না যে মলে রক্ত আসা কলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্কতামূলক লক্ষণ হতে পারে।

​কলকাতা প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান তিনজন চিকিৎসক। ড. পৌলমী বসু বলেন, “কলোরেক্টাল ক্যান্সার সাধারণত ছোট পলিপ হিসেবে শুরু হয় এবং বয়স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, স্থূলতা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকির কারণগুলোতে বাড়তে পারে। মলের অভ্যাস বদল, মলের সাথে রক্ত, পেটে ব্যথা, ক্লান্তি বা ওজন কমার মতো লক্ষণগুলো অনুধাবন করে যেন সময়মতো স্ক্রিনিং—যেমন কোলনোস্কপি—করা হয়।”

​ড. সুদীপ দাস ও ড. সংচয়ন মণ্ডলও বলেন, ভুল ধারণা বশত বাড়িতে ওষুধ খাওয়া ও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এড়িয়ে যাওয়া ভুল। ফাইবার-সমৃদ্ধ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, তামাক ত্যাগ ও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande