
লখনউ, ২০ মার্চ (হি.স.) : হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিপর্যস্ত উত্তর প্রদেশ। শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষের জমি, ফলে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।
এদিন সকাল পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকলেও হঠাৎই আবহাওয়া বদলে যায়। সকাল আটটা-নটার মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ এবং শুরু হয় দমকা হাওয়া-সহ বৃষ্টি। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিরও খবর মিলেছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই পরিবর্তন। ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে থাকে এবং তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায়।
লখনউ ছাড়াও সীতাপুর, বহরাইচ, গোঁদা, বলরামপুর, রায়বেরেলি, উন্নাও, হামিরপুর ও ফতেহপুর সহ একাধিক জেলায় এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে। পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বহু জায়গাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
বজ্রপাতের জেরে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বহরাইচ জেলার মহসি এলাকায় মুনউ (৩০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বলরামপুরের তীর্থ বর্মা (৩০)-রও মৃত্যু হয়েছে বজ্রাঘাতে। প্রয়াগরাজে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও একজন। বিভিন্ন জায়গায় গবাদি পশুও আহত হয়েছে বলে খবর।
ফসলের ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষক
এই বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঠের ফসল। যেসব ফসল কাটা হওয়ার মুখে, সেগুলি ভিজে যাওয়ায় দানার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে কাটতেও দেরি হবে।
আলুচাষিরাও সমস্যায় পড়েছেন। অনেক জায়গায় এখনও আলু তোলা হয়নি, বৃষ্টির ফলে জমি ভিজে যাওয়ায় তা তুলতে দেরি হচ্ছে। সরষে ও গমের ফসলেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে মেন্থা চাষিদের জন্য এই বৃষ্টি কিছুটা উপকারী বলে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২১ মার্চও একই রকম আবহাওয়া থাকতে পারে। সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য