
আগরতলা, ২১ মার্চ (হি.স.) : প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের জবাব দিতে বাম আমলের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। সিকিমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে গরীব ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং এর ফলে রাজ্যের জিএসডিপি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে।
শনিবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে হেল্থ ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিল পাস হয়েছে এবং তা আইনে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিষয়ে ব্যস্ত থাকায় আলাদা করে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যে হেল্থ ইউনিভার্সিটি চালু হবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিল নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি না বুঝে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সিপিআই(এম) আমলেও রাজ্যে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, যেমন ইকফাই ও টেকনো ইন্ডিয়া। সেই সময় এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জি-নেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে সকলেই অবগত।
শুক্রবার বিধানসভায় এই ইস্যুতে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস বিধায়করা তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলের বিরোধীতা করে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউট করেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইউজিসি-এর অনুমোদন নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা সরকার খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনে বিষয়টি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে শুধু রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরাই নয়, বহিঃরাজ্য থেকেও পড়ুয়ারা ত্রিপুরায় পড়তে আসবে। এর ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিধানসভায় উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল উপস্থাপন করেন। এগুলি হল— সায়েন্স টেকনোলজি অ্যান্ড এলাইড স্কিল ইউনিভার্সিটি, অটল বিহারী বাজপেয়ি স্কিল ইউনিভার্সিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই বিলগুলিকে ঘিরেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অধিবেশন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ