
গুয়াহাটি, ২৩ মাৰ্চ (হি.স.) : গুয়াহাটির সরুসজাইয়ে অবস্থিত অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তরের অসম রাজ্য সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সীমান্ত ক্রীড়া মহোৎসব ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরকার্যবাহ (সাধারণ সম্পাদক) দত্তাত্রেয় হোসবলের এক অনুপ্রেরণাদায়ক ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি সমগ্র পরিবেশে দেশপ্রেম, গর্ব ও নতুন উদ্যমের সঞ্চার করেছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী নয়টি জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক খেলোয়াড়, শতাধিক কাৰ্যকৰ্তা এবং উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তরের লক্ষ্য ও অবিরাম প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সীমান্ত অঞ্চলে জাতীয় চেতনার জাগরণ, সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন।
সীমান্ত ক্রীড়া মহোৎসবের তাৎপর্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে দত্তাত্রেয় হোসবলে বলেন, এটি কেবল একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি জাতীয় জাগরণের আন্দোলন। এর মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার বিকাশ ঘটে। সীমান্তবর্তী জেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য এই মঞ্চ এক সুবর্ণ সুযোগ। বিশেষত আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আজ।
মহাভারতে পিতামহ ভীষ্মের একটি উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের সীমা মায়ের বস্ত্রের মতো, একে রক্ষা করা সন্তানের প্রথম কর্তব্য’ । এই মহান বাণী সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর গত কয়েক বছর ধরে বাস্তবে রূপায়িত করে আসছে।
দত্তাত্ৰেয় আরও বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে জন্মগ্ৰহণকারী এবং বসবাসকারী মানুষ আসলে ঈশ্বরের উপহারস্বরূপ জাতির রক্ষক। যেভাবে নিরাপত্তা বাহিনী সরকারিভাবে সীমান্ত রক্ষা করে, ঠিক তেমনি সীমান্তবাসীরা জন্মগতভাবেই দেশের সীমার সতর্ক প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের সাহস, সতর্কতা ও দেশপ্রেম জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে। তাঁদের জীবন সাহস, সরলতা ও গভীর দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে দেশের সীমান্ত রক্ষা করে চলেছেন, যা সমগ্র ভারতবাসীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
নিজের সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে দত্তাত্রেয় হোসবলে বলেন, ‘সীমান্ত ক্রীড়া মহোৎসব ২০২৬’ আজ জাতীয় সংহতি, যুবশক্তির বিকাশ এবং সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নের এক দীপশিখা হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। এটি কেবল ক্রীড়ার উদযাপন নয়, ভারতের ঐক্য, বৈচিত্র্য ও অদম্য আত্মার এক মহোৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভারত মাতার প্রতিচ্ছবিতে পুষ্পার্পণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল সঞ্জীব বরদলৈ, আরএসএস-এর অখিল ভারতীয় কার্যকরণী সদস্য উল্লাস কুলকর্নি, সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তরের সভাপতি ড. প্রতিমা নিয়োগী এবং অসম রাজ্য সমিতির সভাপতি বাবলু কুমার রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তরের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনীতা ভাগবতী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস