সংকটের বাজারে দুর্গাপুরে অব্যবহৃত শেল গ্যাস ভাণ্ডার, ১৫ বছরেও শুরু হয়নি উত্তোলন
দুর্গাপুর, ২৪ মার্চ (হি. স.) : বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে দেশের সম্ভাবনাময় শেল গ্যাস ভাণ্ডার দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। প্রায় ১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে সাফল্য মিললেও এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের কাজ শু
সংকটের বাজারে দুর্গাপুরে অব্যবহৃত শেল গ্যাস ভাণ্ডার, ১৫ বছরেও শুরু হয়নি উত্তোলন


দুর্গাপুর, ২৪ মার্চ (হি. স.) : বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে দেশের সম্ভাবনাময় শেল গ্যাস ভাণ্ডার দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। প্রায় ১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে সাফল্য মিললেও এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের কাজ শুরু হয়নি, যা নিয়ে শিল্পমহলে প্রশ্ন উঠেছে।

২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি দুর্গাপুরের কাছে ইছাপুর এলাকায় প্রায় ১,৭০০–২,০০০ মিটার গভীরে খনন করে শেল গ্যাসের সন্ধান পায়। এই অনুসন্ধান ছিল দামোদর অববাহিকার রানিগঞ্জ উপ-অববাহিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক পদক্ষেপ।

ওএনজিসি-র গবেষণা শাখা কেডি মালব্য পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান-এর পরিকল্পনায় এবং মার্কিন সংস্থা শ্লামবার্জার-এর কারিগরি সহায়তায় খননকার্য পরিচালিত হয়। আরএনএসজি-১ নামের কূপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯৮৫ থেকে ১৮৪৩ মিটার গভীরতায় গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রানিগঞ্জ সাব-বেসিনে প্রায় ৬.৬৩ কোটি ঘনফুট শেল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ উত্তোলনযোগ্য। কেন্দ্রীয় সংস্থা পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ড (পিএনজিআরবি)-র ২০১৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট সম্ভাব্য শেল গ্যাস ভাণ্ডার প্রায় ১,১৭০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, যার একটি ক্ষুদ্র অংশই প্রযুক্তিগতভাবে উত্তোলনযোগ্য।

তবে বাস্তবে একাধিক কারণে এই প্রকল্প এগোয়নি। ওএনজিসি সূত্রে জানা গেছে, রানিগঞ্জ এলাকায় জলের অভাব, হাইড্রো-ফ্র্যাকচারিং প্রযুক্তির জটিলতা, পরিবেশগত উদ্বেগ, জমির সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয়—সব মিলিয়ে শেল গ্যাস উত্তোলনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভূকম্পনজনিত ঝুঁকিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ায় উন্নয়ন থমকে রয়েছে। লাউদোহা ব্লকের প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, কেন এখনও পর্যন্ত প্রকল্পটি চালু হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশনা নেই।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, রাজ্যের অসহযোগিতার কারণে প্রকল্প আটকে রয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। সেই প্রেক্ষিতে দুর্গাপুরের শেল গ্যাস ভাণ্ডার ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande