
গুয়াহাটি, ২৪ মাৰ্চ (হি.স.) : চলতি ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, প্যারা-অ্যাথলিট এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এই উদ্যোগটি নির্বাচন কমিশনের ‘সিস্টেমেটিক ভোটারস এডুকেশন অ্যান্ড ইলেক্টোরাল পার্টিসিপেশন’ (এসভিইইপি) কর্মসূচির অংশ। এসভিইইপি-র লক্ষ্য ভোটাধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর কর্তৃক জারিকৃত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অসমের সব জেলায় নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসকগণ বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে পথনাটক, রঙ্গুলি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্লোগান লেখার প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল পোস্টার প্রচার, দেওয়াল লিখন অভিযান এবং কর্মশালা। অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সংবাদ উপস্থাপনা প্রতিযোগিতা এবং মানুষকে যুক্ত করার অন্যান্য উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এই প্রচারাভিযান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সারা রাজ্যে নানা ধরনের কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে।
সব জেলায় ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য স্থানীয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশেষ ‘শুভঙ্কর’ও চালু করা হয়েছে। লখিমপুরে ‘বখর’, শোণিতপুরে ‘গণবন্ধু’, যোরহাটে ‘জোলৌ’, গোলাঘাটে ‘চামেলি’ এবং কোকরাঝাড়ে ‘দ্বিমলু’ ও ‘শিখিরি’।
সচেতনতা অভিযানকে আরও বিস্তৃত করতে প্রতিষ্ঠিত তথা পরিচিত ব্যক্তিত্বদেরও যুক্ত করা হয়েছে। যোরহাট জেলায় ‘লেজিগাই’ নামে পরিচিত ব্লগার অভিনব বরাকে যুব ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রচারের মুখ করা হয়েছে। লখিমপুরে অভিনেতা রাজীব দুওরিকে আইকন করা হয়েছে, আর প্যারা-সাইক্লিস্ট রাকেশ বণিক একাধিক জেলায় সচেতনতা প্রচারের নেতৃত্ব দেবেন।
মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক অনুরাগ গোয়াল আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বিস্তৃত এই প্রচারের ফলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে। তিনি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত অসম বিধানসভার ১২৬টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস