
আগরতলা, ২৪ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় ভাঙনের ছবি সামনে এল। শাসক দল বিজেপি-এর শিবিরে যোগ দিলেন তিপ্রা মথা দলের দুইজন এমডিসি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মঙ্গলবার আগরতলায় কৃষ্ণনগরস্থিত বিজেপি-এর প্রদেশ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা নবাগত নেতাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-এর রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা-সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিজেপিতে যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন টিটিএএডিসি-এর এমডিসি সওদাগর কলই, এক্সিকিউটিভ মেম্বার অনন্ত দেববর্মা, রাজেশ কুমার দেববর্মা, তৈষিরাম রিয়াং এবং সূর্যবাসী মলসম। তাঁদের এই দলবদলকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দলত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমডিসি সওদাগর কলই তিপ্রা মথা দলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, জনজাতি মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিপ্রা মথা দলে যোগদান করলেও বাস্তবে সেই উন্নয়নের প্রতিফলন দেখা যায়নি। দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনজাতি জনগোষ্ঠী এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সওদাগর কলই অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের ‘ডিল’ হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, “জনজাতিদের উন্নয়ন কি তবে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত হবে?”—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি আরও বলেন, তিপ্রা মথা দলের একাংশ নেতৃত্বের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রমাণও মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে, এই দলবদলকে ঘিরে টিটিএএডিসি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ