টিটিএএডিসি নির্বাচন : পুরনোদের ছেঁটে বহু নতুন মুখ, প্রার্থী তালিকা প্রকাশ তিপ্রা মথার
আগরতলা, ২৪ মার্চ (হি.স.) : আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজ্যের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি তিপ্রা মথা-র অন্দরমহলে তীব্র অস্থিরতা ও মতবিরোধের ছবি সামনে এসেছে। প্রার্থী বাছাইকে
তিপ্রা মথা পার্টি


আগরতলা, ২৪ মার্চ (হি.স.) : আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজ্যের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি তিপ্রা মথা-র অন্দরমহলে তীব্র অস্থিরতা ও মতবিরোধের ছবি সামনে এসেছে। প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে, জানা গেছে দলীয় সূত্রে।

দলীয় সূত্রের খবর, বর্তমান এমডিসি-দের একটি বড় অংশকে সরিয়ে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত নেন দলপ্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে আজ মঙ্গলবার দিনভর তা চরমে পৌঁছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার আগেই দলের একাধিক নেতা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এতে স্পষ্ট, দলের ভেতরে চাপ ও সমন্বয়ের অভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠেছে। সূত্রের দাবি, বাড়ন্ত চাপের মুখে শেষ মুহূর্তে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম অনুমোদন করতে বাধ্য হয়েছেন দলপ্রধান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা কোনও মিত্র দলের সঙ্গে নির্বাচনের আগে জোটে যেতে আগ্রহী নয়। এর পরপরই তিপ্রা মথা টিটিএএডিসি-র ২৮টি আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হল — দলপ্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের নামের অনুপস্থিতি। গত নির্বাচনে তিনি টাকারজলা-জাম্পুইজলা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার সেই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে দলের যুব সংগঠনের সভাপতি সুরজ দেববর্মাকে।

প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দলটি তাদের বর্তমান এমডিসি-দের প্রায় ৫০ শতাংশকে বাদ দিয়ে নতুন মুখের উপর ভরসা করেছে। এমন-কি, একাধিক নির্বাহী সদস্যকেও এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজেশ ত্রিপুরা এবং সুহেল দেববর্মার মতো নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘মহারানি-চেলাগং’ কেন্দ্র থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা চন্দ্রকুমার জামাতিয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা দলীয় কৌশলে নতুনত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দলের নির্বাহী সদস্য ডলি রিয়াং-কে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নাকি বিজেপি-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। এক প্রবীণ নেতা দাবি করেন, বিজেপির তরফে তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় শেষপর্যন্ত তিপ্রা মথাও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

তবে এই অস্থিরতার মধ্যেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। সিইএম পূর্ণচন্দ্র জামাতিয়া এবং চেয়ারম্যান জগদীশ দেববর্মা তাঁদের নিজ নিজ আসনে পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি, প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক রাজেশ্বর দেববর্মাকে কুলাই-চাম্পাহাওর কেন্দ্র থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande