
নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ (হি.স.) : দিল্লিতে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের বরাদ্দ ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি সরকার। এর ফলে দৈনিক সরবরাহ ১৮০০ থেকে বেড়ে ৪৫০০টি (১৯ কেজি) সিলিন্ডারে পৌঁছেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়তি সরবরাহ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং জরুরি পরিষেবা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিল্পক্ষেত্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রয়োজন মেটাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। নতুন ব্যবস্থায় এলপিজি বিতরণকে সাতটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ঢাবা, ফুড প্রসেসিং ও ডেয়ারি খাতে—মোট ৭৫ শতাংশ। পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কেটারিং পরিষেবা, ছোট শিল্প ও ক্রীড়া অবকাঠামোর জন্যও নির্দিষ্ট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দিল্লির খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্র সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেই সময়েও কেন্দ্র সরকার প্রয়োজনীয় পরিষেবা খাতগুলিতে বাণিজ্যিক এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে ছোট ব্যবসা, শ্রমজীবী মানুষ এবং পরিষেবা খাতের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের সরাসরি উপকার হবে। তাঁদের জীবিকা আরও সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
সরকার জানিয়েছে, গত তিন মাসের গড় ব্যবহারকে ভিত্তি করে সরবরাহ নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভেটস অ্যান্ড মেজার্স ও খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের যৌথ দল শহরজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। নিয়ম ভাঙলে প্রয়োজনীয় পণ্য আইন ১৯৫৫, এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার ২০০০ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৪ অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিতরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চলছে। তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরবরাহকারী সংস্থা ও আইজিএলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পিএনজি পরিষেবার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে বাণিজ্যিক এলপিজির জোগান বৃদ্ধি শহরের পরিষেবা খাতকে স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য