কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকলে উন্নয়ন ও সামগ্রিক বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় : জয়ন্ত
পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি, রেগা তহবিলে সংগঠিত ব্যাপক অনিয়ম : অসম বিজেপি গুয়াহাটি, ২৭ মাৰ্চ (হি.স.) : কেন্দ্র এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় উন্নয়ন এবং সামগ্রিক বিকাশের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এই পরিবেশ সৃষ্টি হয় ‘ডা
সাংবাদিক সম্মেলনে অসম বিজেপির মুখপাত্র জয়ন্তকুমার গোস্বামী


পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি, রেগা তহবিলে সংগঠিত ব্যাপক অনিয়ম : অসম বিজেপি

গুয়াহাটি, ২৭ মাৰ্চ (হি.স.) : কেন্দ্র এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় উন্নয়ন এবং সামগ্রিক বিকাশের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এই পরিবেশ সৃষ্টি হয় ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’। গত দশ বছরে এই ডাবল ইঞ্জিন সরকার অসমের ক্ষেত্রে এই ধারণাকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, জাগিরোডে একটি সেমিকন্ডাক্টর প্লান্ট, গুয়াহাটিতে এইমস ইত্যাদি বহু।

আজ শুক্রবার গুয়হাটিতে বিজেপির অসম প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের অন্যতম মুখপাত্র জয়ন্তকুমার গোস্বামী ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর সুফল সম্পর্কে বহু তথ্য দিয়েছেন। গোস্বামী বলেন, অসমের জাগিরোডে একটি সেমিকন্ডাক্টর প্লান্ট-এর মতো বৃহৎ প্রকল্পটি স্থাপনের জন্য অনুমতি ও সমর্থন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদি অসমে বিজেপি সরকার না থাকত, তা-হলে ভূমি প্রদান বা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা দেখা দিত এবং প্রকল্পটি আর হতো না। কংগ্রেস সরকার থাকলে এই সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অসম পেতই না।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ক্ষেত্রেও দেখা যায়, কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ দিলেও রাজ্য সরকার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে ইন্দিরা গান্ধী আবাস যোজনার দুরবস্থা তার এক উদাহরণ।

ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে অসমে বহু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় আলফা, কেএলএনএফ, কেপিএলটি, পিডিসিকে, ইউপিপিএল, এপিএ, এএনএলএ, এসিএনএ, বিসিএফ, এসিসিএফ, জিএনএএ সহ বহু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি হয়েছে। ফলে শান্তি ফিরে এসেছে রাজ্যে। একইসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (আফসপা) ধীরে ধীরে হ্রাস করা হয়েছে। বর্তমানে এই আইন কেবল তিনসুকিয়া, চড়াইদেও এবং শিবসাগর জেলায় সীমাবদ্ধ।

পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে বলে জয়ন্তকুমার গোস্বামী বলেন, স্বাধীনতার পর ৭০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের ওপর মাত্র তিনটি সেতু নির্মাণ হয়েছিল। কিন্তু গত দশ বছরে একাধিক নতুন সেতু নির্মাণ হয়েছে। রেল পরিবহণেও উন্নতি হয়েছে। ২০২১ সালের আগে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিমি ছিল, যা এখন প্রায় ৫৩ কিমি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ৪১৬ কিমি নতুন রেললাইন নির্মাণ হয়েছে এবং প্রায় ৯৩ শতাংশ রেলপথ বিদ্যুতায়িত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সাহায্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪ সালের আগে অসম মোট প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকা পেয়েছিল, কিন্তু ২০১৬ সালের পর গত দশ বছরে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সাহায্য পেয়েছে।

ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্যও একাধিক বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন গুয়াহাটি রিং রোড, কাজিরঙা এলিভেটেড করিডোর, ব্রহ্মপুত্রে আন্ডারওয়াটার টানেল এবং ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে গেটওয়ে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও উন্নয়ন হয়েছে। গুয়াহাটিতে এইমস স্থাপন এবং বিভিন্ন স্থানে ২৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নির্মাণ এর উদাহরণ।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষায়ও সাফল্য এসেছে। ২০২২ সাল পর্যন্ত কাজিরঙায় ১৯৩টি গণ্ডারের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত একটিও গণ্ডারের চোরাশিকার হয়নি।

এছাড়া প্রায় ১.৬৫ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে, বলেন মুখপাত্র জয়ন্ত।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে অসমীয়াকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। চড়ইদেও মৈদামকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ড. ভূপেন হাজরিকাকে ‘ভারত রত্ন’ সম্মান দেওয়া হয়েছে এবং উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মকেও জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিআই ট্যাগের মাধ্যমে অসমের গামোছা, ঐতিহ্যবাহী গহনা এবং বিভিন্ন পণ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চা-বাগানের প্রায় ৩.৩৩ কোটি মানুষকে জমির অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১.৫ লক্ষ বিঘা জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। মহিলা উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যে ভিন্ন দল ক্ষমতায় আছে, যেমন পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক এবং পঞ্জাব, সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রেল প্রকল্প, কর্ণাটকে জল জীবন মিশন এবং পঞ্জাবে জাতীয় সড়ক প্রকল্প ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আটকে আছে।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। যার দরুন রাজ্যবাসীকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কেবল তা-ই নয়, এমজিএনরেগা-র তহবিল ব্যবহারেও ব্যাকক অনিয়ম হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে, বলেন অসম বিজেপির মুখপাত্র।

এ সমস্ত উদাহরণ তুলে ধরে মুখপাত্র জয়ন্তকুমার গোস্বামী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় থাকলেই উন্নয়ন দ্রুত হয়। অসমে সেই সমন্বয়ের ফলেই শান্তি, উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande