
কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পূরক (সাপ্লিমেন্টারি) ভোটার তালিকা প্রকাশ না করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে জানতে চান, এই তালিকার আড়ালে আসলে কী গোপন করার চেষ্টা হচ্ছে? কমিশনকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, এই তালিকা অবিলম্বে জনসমক্ষে আনা হোক এবং সংবাদমাধ্যমের কাছেও তা উপলব্ধ করা হোক।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পূরক তালিকা এখনও পর্যন্ত কেন সাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি? আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই তালিকার অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। কোনো রাজনৈতিক দলকেই এই তালিকা দেওয়া হয়নি। আসলে কী লুকানো হচ্ছে?
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রচুর মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলাগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। দলীয় কর্মীদের বুথ স্তরে গিয়ে এই ধরনের ভোটারদের দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
আসন্ন জনগণনা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যতদিন আমার সরকার ক্ষমতায় আছে, কাউকে ডিটেনশন সেন্টারে যেতে দেওয়া হবে না। এই রাজনৈতিক সংগ্রামকে মহাভারতের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এটি পাণ্ডব ও কৌরবের লড়াইয়ের মতো। আমরা পাণ্ডব এবং আমাদের লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
একই ইস্যুতে রাজ্য মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং লোকসভা সদস্য বাপি হালদারের এক প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা প্রতিদিনের ভিত্তিতে পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন, কমিশন ২৯ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তির কথা বললেও তালিকায় মাত্র ৭.৫ লক্ষ ভোটারের উল্লেখ রয়েছে।
বীরভূমের দুবরাজপুরের সভায় বিজেপিকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি দেউচা-পচামি কয়লা প্রকল্প শুরু হলে বিদ্যুতের দাম কমানোর এবং প্রায় এক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। সভার শেষে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের ওপর বিশেষ জোর দেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি