
কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি. স.) : শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের দরবার হলে শুক্রবার শুরু হল সর্বভারতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী — ‘ল্যান্ডস্কেপ কেরালা’। ‘গড’স ওন কান্ট্রি’ নামে পরিচিত কেরালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও জীবনের বহুমাত্রিক রূপ এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। তিন দিনের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দেশের ১০ জন খ্যাতনামা ট্র্যাভেল ও মিডিয়া ফটোগ্রাফারের তোলা ১০০টি নির্বাচিত ছবি। সবুজ প্রকৃতি, ব্যাকওয়াটার, বন্যপ্রাণ, উৎসব ও আধ্যাত্মিকতা থেকে শুরু করে উপকূলীয় জীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে এই ফ্রেমগুলিতে। প্রদর্শনীটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের উদ্যোগে এবং কেরালা পর্যটন দপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ভিএমএইচ-এর সচিব ও কিউরেটর ড. সায়ন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অন্য প্রান্তের সৌন্দর্যকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ দিচ্ছে এই প্রদর্শনী।” প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ‘রিভার্স ট্যুরিজম’ এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এই প্রদর্শনী সাযুজ্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রদর্শনীর কিউরেশন করেছেন বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক উমা নায়ার এবং প্রোজেক্টের ডিরেক্টর অফ ফটোগ্রাফি হিসেবে রয়েছেন খ্যাতনামা বন্যপ্রাণ আলোকচিত্রী বালন মাধবন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য — অংশগ্রহণকারী ফটোগ্রাফারদের মধ্যে রয়েছেন এইচ সতীশ, শিবাং মেহতা, সায়বল দাস, উমেশ গোগনা, সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, নাতাশা কার্তার হেমরাজানি, ঐশ্বর্যা শ্রীধর, অমিত পসরিচা, মনোজ অরোরা ও কৌন্তেয় সিনহা। এঁদের মধ্যে তিনজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে তাঁরা এই ছবিগুলি তুলেছিলেন। প্রতিটি ছবিতে ধরা পড়েছে কেরালার বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন ও প্রকৃতির অনন্যতা।
ইতিমধ্যেই দেশের ১০টি শহর ঘুরে এই প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। নয়াদিল্লিতে সূচনার পর বরোদা, আমেদাবাদ, মুম্বই, পুনে, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও সুরাট ঘুরে বর্তমানে কলকাতায় এই প্রদর্শনী চলছে। আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সকলের জন্য খোলা থাকবে। কেরালা ভ্রমণে আগ্রহী দর্শকদের জন্য এটি যেমন একটি ‘ভিজ্যুয়াল গাইড’, তেমনই যাঁরা ইতিমধ্যে কেরালা ঘুরে এসেছেন, তাঁদের কাছে সেই অভিজ্ঞতা নতুন করে ফিরে পাওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত