
দুর্গাপুর, ২৮ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্র ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই জামুড়িয়ার প্রার্থীকে তাঁর ছেলের আচরণ নিয়ে সতর্ক করায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শনিবার রানিগঞ্জ বিধানসভার অন্ডালের খান্দরা ফুটবল ময়দানে সভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত ভুল করেছে এবং বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর দাবি, “বাংলাকে টার্গেট করেছে বিজেপি, আর আমি দিল্লিকে টার্গেট করছি।”
রামনবমীর মিছিল ঘিরে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ করেন, “যেসব অফিসাররা এলাকায় কাজ জানেন, তাঁদের অন্য রাজ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে টাকা ও দুষ্কৃতী ঢোকানো সহজ হয়।”
এদিন ধসপ্রবণ রানিগঞ্জ-আসানসোল এলাকার পুনর্বাসন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ফ্ল্যাট নির্মীয়মাণ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনে দু’টি করে ফ্ল্যাট এবং স্থানান্তরের খরচ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তবে পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পরিকাঠামোগত সমস্যা ও জলসংকটের কারণে অনেকেই ওই ফ্ল্যাটে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
সভায় শিল্প বিনিয়োগ নিয়েও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আসানসোলে শেল গ্যাস প্রকল্পে ২২ হাজার কোটি টাকা এবং রঘুনাথপুরে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। দুর্গাপুরে ডিভিসির জন্য জমি বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় জামুড়িয়ার প্রার্থী হরেরাম সিংকে পরিচয় করানোর সময় তাঁর ছেলের আচরণ নিয়ে সরাসরি সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তোমার ছেলে যেন লালবাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার না করে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রার্থীর ছেলে এলাকায় লাল-নীল বাতি ও হুটার ব্যবহার করে ঘোরাফেরা করেন, যা নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কটাক্ষ করে জানায়, তারা আগেই এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছিল।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রাজ্য সরকার থাকবে। পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে তিনি দাবি করেন, “১ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে, শিল্পে বিনিয়োগ বেড়েছে এবং বেকারত্ব কমেছে।”
সব মিলিয়ে, অন্ডালের এই সভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব একদিকে যেমন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বার্তা দিয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক আক্রমণও আরও তীব্র করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা