
নয়াদিল্লি, ২৮ মার্চ (হি.স.) : দেশে পরিবেশবান্ধব বন্দর গড়ে তোলা ও সামুদ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই লক্ষ্যে প্রধান বন্দরগুলিতে ‘গ্রিন টাগ ট্রানজিশন প্রোগ্রাম’ (জিটিটিপি) চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রচলিত ডিজেলচালিত টাগবোটকে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক বা হাইব্রিড টাগে রূপান্তর করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি বন্দর এলাকায় নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের বিদ্যুদয়ন, শূন্য-নিঃসরণ ট্রাক চালু করা এবং ‘হরিত সাগর গ্রিন পোর্ট গাইডলাইনস’-এর আওতায় অনশোর পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এইসব উদ্যোগের ফলে প্রধান বন্দরগুলিতে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
লোকসভায় লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানান, দীনদয়াল উপাধ্যায়, জওহরলাল নেহরু, বিশাখাপত্তনম ও ভি ও চিদম্বরনার বন্দরগুলিতে ইতিমধ্যেই বৈদ্যুতিক টাগের জন্য কাজের নির্দেশ জারি হয়েছে।
এছাড়া নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক গুজরাটের দীনদয়াল বন্দর, ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর এবং তামিলনাড়ুর ভি. ও. চিদাম্বরানার বন্দরকে গ্রিন হাইড্রোজেন হাব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এইসব বন্দরে গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া প্রকল্প গড়ে তুলতে জমি বরাদ্দ, ইলেক্ট্রোলাইজারভিত্তিক প্ল্যান্ট স্থাপন এবং গ্রিন মিথানল সংরক্ষণ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে।
পারাদ্বীপ বন্দরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে প্রায় ৭৯৭.১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে গ্রিন হাইড্রোজেন বা অ্যামোনিয়া হ্যান্ডলিং জেটি তৈরি করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে (২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫) বন্দর আধুনিকীকরণ, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল এবং সবুজ বন্দর উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রায় ১৮০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
‘মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দরে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার ৬০ শতাংশের বেশি করা, ৫০ শতাংশ যন্ত্রপাতির বিদ্যুদয়ন, সবুজ এলাকার পরিমাণ ২০ শতাংশে উন্নীত করা এবং প্রতি টন পণ্য পরিবহণে কার্বন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানো হবে।
কেন্দ্রের মতে, এই পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক খাত আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পথে এগোবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য