
কলকাতা, ২৮ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে প্রবীণ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি এখন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাজনীতিতে একটি মর্যাদার রেখা থাকা উচিত, যা অতিক্রম করা অনুচিত।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক আধিকারিককে বদলি করে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা স্থানীয় পরিস্থিতি ভালো বুঝতেন, তাঁদের সরিয়ে প্রশাসনকে দুর্বল করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বহিরাগত প্রভাব বাড়াতে এবং নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি প্রভাবিত করতেই এই সব করা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নামেও কারচুপি করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জে রামনবমীর শোভাযাত্রার সময় ঘটা হিংসার কথাও উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রশাসন তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই, কারণ নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থার অধীনে থাকে। রঘুনাথগঞ্জে দোকানে লুটপাট ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও এর জন্য তাঁকে দায়ী করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, হিংসায় উস্কানিদাতাদের সময় এলে রেয়াত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে 'বুলডোজার রাজনীতি' শুরু হবে এবং মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হবে। বেহালা অঞ্চলেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সরকার তাঁদের দোকান ও সম্পত্তি পুনর্গঠন করে দেবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, যে দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে, তারাই অবৈধ কয়লা ব্যবসা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় হলো সামাজিক সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য। রাজ্যে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে রামনবমী, দুর্গাপূজা, ঈদ এবং বড়দিনের মতো উৎসব পালন করেন এবং এটাই বাংলার আসল শক্তি।
রানিগঞ্জের ধসপ্রবণ এলাকার জন্য পুনর্বাসন প্যাকেজও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার চায় না কেউ বিপজ্জনক এলাকায় থাকুক। তিনি ঘোষণা করেন, যারা নিরাপদ স্থানে যেতে চাইবেন, তাঁদের ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা এবং দুটি করে আবাসন দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে স্থানান্তরের পুরো খরচও বহন করবে সরকার। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ২০০০ আবাসন তৈরি হয়েছে এবং আরও ৪০০০ আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই পুনর্বাসন পুরোপুরি স্বেচ্ছাধীন হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সরকার কাউকে বাধ্য করছে না, বরং মানুষের কাছে আবেদন করছে যাতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার কথা বিবেচনা করেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বড় ধরনের ধস নামলে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি