মুর্শিদাবাদে রামনবমীর মিছিলে হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার ৮, রঘুনাথগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি
বহরমপুর, ২৮ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রামনবমীর মিছিল চলাকালীন ঘটা হিংসার ঘটনায় শনিবার সকাল পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রঘুনাথগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করার পাশাপাশি প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোত
মুর্শিদাবাদে  সংঘর্ষ


বহরমপুর, ২৮ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রামনবমীর মিছিল চলাকালীন ঘটা হিংসার ঘটনায় শনিবার সকাল পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রঘুনাথগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করার পাশাপাশি প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় রামনবমীর মিছিল চলাকালীন বিবাদের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং দু’পক্ষ থেকেই পাথর ছোঁড়া শুরু হয়। এই সময়ে বেশ কিছু দোকান ও সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কিছু জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি পার্কের দিকে যাওয়ার সময় সিসাতলা এলাকায় গান বাজানোকে কেন্দ্র করে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এরপর ফুলতলা মোড়ের কাছেও পাথর বৃষ্টির ঘটনা ঘটে, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত জনতা আশেপাশের বেশ কিছু ফলের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাগাতার টহল দেওয়া হচ্ছে এবং শান্তি বজায় রাখতে রুট মার্চ করা হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মুর্শিদাবাদের ডিআইজি অজিত সিং যাদব জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

অন্য এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন নজরদারি চালানো হচ্ছে। শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি জারি রয়েছে। হিংসায় লিপ্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

প্রশাসন রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার কিছু এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যার ফলে চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা ধনঞ্জয় ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, এই হিংসা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে, জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া এবং শান্তি নিশ্চিত করা।

প্রশাসন স্থানীয় মানুষের কাছে শান্তি বজায় রাখার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুরো জেলায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande