
ভুবনেশ্বর, ২৮ মার্চ (হি.স.): ওড়িশার নয়াগড় জেলায় শুক্রবার গভীর রাতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এই বাস দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি|
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা ওড়িশা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক জানিয়েছেন, নয়াগড়ে এই বাস দুর্ঘটনার খবর শুনে আমি মর্মাহত| এতে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আমি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করি| আহতদের দ্রুত আরোগ্য ও প্রার্থনা করি। এই মর্মান্তিক সময়ে আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাটি দশপাল্লা থানা এলাকার অন্তর্গত টাকেরার কাছে হনুমান ঘাটিতে হয়। নিহতদের মধ্যে বাসের চালক এবং চারজন মহিলাও আছেন। নিহতরা হলেন হরি পাত্র, লক্ষ্মী পাত্র, সুপ্রভা সাহু এবং সুমতি সাহু, এঁরা সকলেই ব্রহ্মপুরের বাসিন্দা; এছাড়াও নিহতের তালিকায় রয়েছেন বাসের চালকও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকবাহী বেসরকারি বাসটি ব্রহ্মপুর থেকে হরিশঙ্কর যাচ্ছিল| এবং এতে প্রায় ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। হনুমান ঘাটির কাছে একটি মোড়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি একটি বড় পাথরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার অভিঘাতে বেশ কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে ছিটকে পড়েন| আরও প্রায় ১০ জন যাত্রী বাসের নিচে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। গ্যাস-কাটার ব্যবহার করে উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, তার মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আহত এক যাত্রী বলেন, চালক একটি মোড়ের কাছে খুব দ্রুত গতিতে চালানোয় বাসটি উল্টে যায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ