
সোনামুড়া (ত্রিপুরা), ২৮ মার্চ (হি.স.) : শুধুমাত্র প্রচলিত সবজি চাষ নয়, ব্যতিক্রমী ফসল উৎপাদনের মাধ্যমেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব—এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিপাহীজলা জেলার মেলাঘরের ইন্দিরানগরের কৃষক এবাদুল হক। সুইট কর্ন বা মিষ্টি ভুট্টা চাষ করে তিনি যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি এলাকার অন্যান্য কৃষকদের কাছেও নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখিয়েছেন।
জানা গেছে, মেলাঘরের ইন্দিরানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রুদ্রসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে নিজের প্রায় তিন কানি জমিতে সুইট কর্ন চাষ করেন এবাদুল হক। এই ফসল চাষ করে বর্তমানে তিনি ভাল লাভের মুখ দেখছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁর উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রির জন্য তাঁকে স্থানীয় বাজারে যেতে হয় না। বাড়ি থেকেই বিভিন্ন সবজি আড়তের ব্যবসায়ীরা সরাসরি ভুট্টা কিনে নিয়ে যান।
কৃষক এবাদুল হক জানান, তাঁর এক বন্ধুর উৎসাহেই তিনি এই ভুট্টা চাষ শুরু করেন। ওই বন্ধু একটি কৃষি সংস্থায় কর্মরত এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁকে দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি দফতরের সহযোগিতাও তিনি পেয়েছেন, যা তাঁর এই উদ্যোগকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উল্লেখ্য, সোনামুড়া মহকুমা মূলত একটি কৃষিপ্রধান এলাকা, যেখানে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ প্রচলিত থাকলেও ভুট্টা চাষ তেমন একটা দেখা যায় না। অনেক কৃষকের ধারণা, ভুট্টা চাষে লাভ কম। তবে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন এবাদুল হক। তাঁর সফলতা প্রমাণ করেছে, সঠিক পদ্ধতি ও বাজার চাহিদা বুঝে চাষ করলে ভুট্টাও লাভজনক ফসল হতে পারে।
বর্তমানে বাজারে সুইট কর্নের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবাদুল হক নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি অন্য কৃষকদেরও এই ফসল চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় মহলে এবাদুল হকের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকেই তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কৃষি ক্ষেত্রে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের দাবি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ