
কিষাণগঞ্জ, ৩১ মার্চ (হি.স.): আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে কিষাণগঞ্জের এসডিপিও-১ গৌতম কুমারের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ডেরায় মঙ্গলবার একযোগে তল্লাশি চালাল বিহার পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইওইউ)। কিষাণগঞ্জ ছাড়াও পূর্ণিয়া, আরারিয়া, পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে এই ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ ইওইউ-এর ১২ জন আধিকারিকের একটি প্রতিনিধি দল তিনটি গাড়িতে করে কিষাণগঞ্জে গৌতম কুমারের আবাসন ও কার্যালয়ে পৌঁছান। তল্লাশি চলাকালীন দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নথি, সম্পত্তির কাগজ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এসডিপিও গৌতম কুমারের বিরুদ্ধে আয়ের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারী দল বর্তমানে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জমি কেনাবেচার দলিল এবং অন্যান্য বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করছে। গৌতম কুমারের পৈতৃক বাড়ি সহর্ষে এবং পাটনাতেও তাঁর একটি নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। এছাড়া পূর্ণিয়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তল্লাশি চলাকালীন গৌতম কুমার নিজেই কিষাণগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গৌতম কুমার কিষাণগঞ্জ জেলায় অবৈধ বালি খাদান, লটারি মাফিয়া, চোরাচালান এবং ডাকাতির মতো একাধিক বড় চক্রের পর্দাফাঁস করেছিলেন। তবে অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কালো টাকা জমানোর অভিযোগ জমা পড়েছিল অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার কাছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন এই অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে তল্লাশি প্রক্রিয়া জারি রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি