কোচিং সেন্টারগুলিকে এক সপ্তাহের মধ্যে সফল প্রার্থীদের ছবি ও নাম সংবলিত হোৰ্ডিং সরানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্বের
এপিএসসি উত্তীর্ণদের নিয়োগপত্র বিতরণ মুখ্যমন্ত্রীর গুয়াহাটি, ৪ মাৰ্চ (হি.স.) : অসমের কোচিং সেন্টারগুলিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সফল প্রার্থীদের ছবি ও নাম সংবলিত বিজ্ঞাপন ( হোৰ্ডিং) প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
এপিএসসি উত্তীর্ণদের নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী


জনৈক প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার চিত্র


এপিএসসি উত্তীর্ণদের নিয়োগপত্র বিতরণ মুখ্যমন্ত্রীর

গুয়াহাটি, ৪ মাৰ্চ (হি.স.) : অসমের কোচিং সেন্টারগুলিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সফল প্রার্থীদের ছবি ও নাম সংবলিত বিজ্ঞাপন ( হোৰ্ডিং) প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

আজ বুধবার আসাম পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এপিএসসি) পরিচালিত কম্বাইন্ড কম্পিটেটিভ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্যে এই নির্দেশ জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি এপিএসসি-র সাফল্য এবং কৃতিত্ব অপব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে।

নবনিযুক্ত আধিকারিকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ড. শর্মা বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সফল প্রার্থীদের ছবি দ্রুত প্রচারসামগ্রী থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কোচিং সেন্টারগুলিকে ‘মুখস্থবিদ্যার কারখানা’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের সাফল্যের অযৌক্তিক কৃতিত্ব দাবি করে।

তিনি বলেন, ‘এপিএসসি-র উচিত কোচিং সেন্টারগুলো যা পড়ায় তার বিপরীত ধাঁচে প্রশ্নপত্র তৈরি করা। তারা ছাত্রছাত্রীদের তোতার মতো কয়েকটি বিষয় মুখস্থ করায় এবং পরে সাফল্যের কৃতিত্ব নেয়।’ তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী প্রার্থীদের জন্য, কোনও বিপণন প্রচারের ফল নয়।

তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘গত পাঁচ বছরে ১,৫৮,৩৮০ লক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এই সময়ে কোনও অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায়নি।’ তিনি বলেন, ‘এক সময় এপিএসসি-র মাধ্যমে চাকরি পেতে কোটি কোটি টাকা দিতে হতো। বদলির ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকা লাগত। আজ টাকার বিনিময়ে নয়, মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাচ্ছেন যুবক-যুকতীরা।’

তিনি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিপ্লবকুমার শর্মার প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম ছিল তা সেখানে নথিভুক্ত হয়েছে। ‘এখন আর সেই প্রথা নেই...’ দাবি করেন মুখ্যমন্ত্ৰী। তবে নিয়োগের পর সততা বজায় রাখা ব্যক্তিগত দায়িত্ব বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী ড. শৰ্মা এসিএস আধিকারিক নুপুর বরার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলেও ব্যক্তিগত আচরণে ত্রুটি থাকতে পারে। নিয়োগের পর প্রত্যেক আধিকারিকের সব কাজ সরকার নজরদারি করতে পারে না,’ বলে তিনি জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রযুক্তির ভূমিকার ওপর জোর দেন।

ড. শর্মা জানান, গত পাঁচ বছরে রাজস্ব দফতরের মণ্ডলদের মধ্যেই সর্বাধিক গ্রেফতার হয়েছে, যা কঠোর নজরদারির প্রমাণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডিজিটাল যুগে অবৈধ সম্পদ লুকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ‘আয়কর দফতরের কাছ থেকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ লুকিয়ে রাখা সহজ নয়। টাকা যেখানেই রাখা হোক, প্রয়োজনে তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আমরা চাইলে প্রযুক্তির সাহায্যে এক মাসের মধ্যে বহু অভিযুক্ত আধিকারিককে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে পারি।’

নবনিযুক্ত আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, এসিএস বা এপিএস-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ পরিষেবায় যোগ দেওয়ার পর যেন তারা উচ্চাকাঙ্ক্ষা হারিয়ে না ফেলেন। তিনি তাঁদের ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং আরও উচ্চ লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।

তবে কোচিং সেন্টারগুলির বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্যই ছিল সবচেয়ে কঠোর। তিনি নির্দেশ দেন, প্রার্থীদের নাম ও ছবি ব্যবহার করা সমস্ত বিজ্ঞাপন এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সফল প্রার্থীদেরও অনুরোধ জানান, যেন তাদের ছবি প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande