
পুরুলিয়া, ৫ মার্চ (হি.স.): নির্বাচন আসে এবং চলেও যায়, কিন্তু পুরুলিয়ার একাধিক এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান অধরাই থেকে যায়। এই অভিযোগ তুলে আগামী নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই ভোট বয়কটের ডাক দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরুলিয়া শহরের সিটি সেন্টার থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শান্তিপল্লি এলাকা এর অন্যতম উদাহরণ। শহরের এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও পুরুলিয়া-কোটশিলা রেললাইন মাঝখান দিয়ে যাওয়ায় এলাকাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেললাইনের একদিকে পুরুলিয়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ড, আর অন্যদিকে রাঘবপুর পঞ্চায়েত (পুরুলিয়া-২ ব্লক)-এর অধীনে শান্তিপল্লি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও এখানে ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবাটুকু পৌঁছায়নি।
শান্তিপল্লির বাসিন্দা রুমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এলাকায় প্রবেশের কোনো পাকা রাস্তা নেই। রেললাইন ডবল হওয়ার পর সমস্যা আরও বেড়েছে, কারণ পুরোনো রাস্তার ওপর দিয়েই এখন লাইন পাতা হয়েছে। রেলওয়ে রাস্তা তৈরির জন্য জায়গা ছাড়লেও কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন কেউই সড়ক নির্মাণ করেনি। একই ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রবীণ শিক্ষক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত ৩০ বছর ধরে এই বস্তি গড়ে উঠলেও আজও এখানে রাস্তা, জল বা আলোর সুব্যবস্থা নেই। অপর এক বাসিন্দা মৌসম খান জানান, এলাকার বিদ্যুতের আলো ও রাস্তা মেরামতির জন্য গ্রামবাসীদের নিজেদেরই চাঁদা তুলতে হয়। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি পরিচালিত রাঘবপুর পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান অমিত অধিকারী স্বীকার করেছেন যে, জেলা পরিষদ ও উচ্চস্তরের অসহযোগিতার কারণেই উন্নয়নের কাজ আটকে রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীব লোচন সোরেন জানিয়েছেন, অসন্তোষের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
একই ছবি দেখা গিয়েছে পুরুলিয়ার মানবাজার-১ ব্লকের বারমেস্যা গ্রামেও। পানীয় জল এবং রাস্তার দাবিতে সেখানেও ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের প্রবেশদ্বারে ইতিমধ্যে “ভোট বয়কট” লেখা পোস্টার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ও একই প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, গোটা গ্রাম নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট অংশের মানুষ এই ডাক দিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যদিও মানবাজার-১ ব্লকের বিডিও দেবাশিস ধর জানিয়েছেন, এলাকার অধিকাংশ অংশে রাস্তা রয়েছে, কিছু কাজ বাকি থাকতে পারে। পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি