
মথুরাপুর, ১ এপ্রিল (হি.স.) : বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। বুধবার সকালে মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের লালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব রানাঘাটা গাজিপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীসভাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধস নামাল শাসকদল। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এদিন আইএসএফ এবং সিপিএম ছেড়ে প্রায় ২০০টি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছে। ভোটের মুখে রায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই এলাকায় বিরোধীদের এই শক্তিক্ষয় শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত ওই কর্মীসভায় এদিন কয়েকশো কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আইএসএফ-এর অঞ্চল নেতৃত্ব মুস্তাক হালদারের হাত ধরে প্রায় ১০০টি পরিবার ঘাসফুল শিবিরে শামিল হয়। একই সঙ্গে সিপিএমের স্থানীয় নেতা আফতাব উদ্দিন গাজীর নেতৃত্বে আরও ১০০টি পরিবার শাসক দলে নাম লেখায়। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রায়দিঘির বিদায়ী বিধায়ক ডা. অলক জলদাতা, মথুরাপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা ব্লক সভাপতি মানবেন্দ্র হালদার সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্ব।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুমুখী উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে আস্থা রেখেই সাধারণ মানুষ ও বিরোধী কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলে যোগদান করছেন। সাংসদ বাপি হালদার জানান, উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ তৃণমূলের পাশে থাকছে এবং এই যোগদান আসন্ন নির্বাচনে জয়ের পথকে আরও প্রশস্ত করবে। যদিও বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই যোগদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় নেতৃত্ব। তবে ভোটের আগে রায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে এই ভাঙন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বর্তমানে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অন্দরে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত