
গুয়াহাটি, ১২ এপ্রিল (হি.স.) : নির্বাচন-সংক্রান্ত এক মামলায় সমন পেয়ে আজ রবিবার নিৰ্ধারিত সময়ে পানবাজার থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন সেন্ট্রাল গুয়াহাটি আসনের অসম জাতীয় পরিষদ (এজেপি)-এর প্রার্থী কুনকি চৌধুরী। থানায় প্ৰায় দুঘণ্টা তাঁকে জেরা করেছে।
থানা থেকে বেরিয়ে কুনকি বলেছেন, তাঁর কাছে পুলিশ যা জানতে চেয়েছে, সবগুলির সত্য তথ্য দিয়েছেন তিনি। কুনকি বলেন, তিনি নিৰ্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনও কাজ করেননি। তিনি বলেন, সিস্টিমের ওপর তাঁর পূৰ্ণ আস্থা আছে, তদন্ত তার গতিতে চলবে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল ভোটের দিন নিৰ্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সেন্ট্রাল গুয়াহাটি আসনের এজেপি-প্রার্থী কুনকি চৌধুরী বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন বলে পানবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন বিজেপি-র জনৈক কার্যকর্তা। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কুনকি চৌধুরীর বিরুদ্ধে পানবাজার থানায় মামলা রুজু হয়। এফআইআর-এ চৌধুরীর পাশাপাশি তাঁর প্রচার ব্যবস্থাপক সন্দীপ যাদবের নামও রয়েছে।
মামলার ভিত্তিতে আজ ১২ এপ্ৰিল সকাল ১১টার মধ্যে কুনকি চৌধুরীকে পানবাজার থানায় হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে সতর্ক করা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ে থানায় হাজির না হলে তাঁকে গ্রেফতারও করা হতে পারে।
এদিকে কুনকি চৌধুরীর আইনজীবী শান্তনু বড়ঠাকুর বলেছেন, এফআইআর-এ উল্লেখিত অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য, গুরুতর নয়। তাঁর দাবি, প্রার্থীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা ও সমন জারি করা হয়েছে। তিনি নোটিশের সময় এবং ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রসঙ্গত, উচ্চশিক্ষিত ২৬ বছর বয়সি তরুণী কুনকি চৌধুরী রাজনীতির অঙ্গনে একেবারেই নতুন। এবারই প্রথম কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। সেন্ট্রাল গুয়াহাটি আসনে তাঁর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিজেপির অভিজ্ঞ নেতা বিজয়কুমার গুপ্তা।
এজেপি নেতারা কুনকি চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন। দলের সভাপতি লুরিনজ্যেতি গগৈ সমনকে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়ে শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস