
বাঁকুড়া, ১২ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোর করে বাংলা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী । রবিবার বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনা বিধানসভা এলাকায় একাধিক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান এবং রাজ্যের মানুষের কাছে গণতান্ত্রিক উপায়ে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ছাতনার শালচূড়া ফুটবল মাঠে আয়োজিত জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওরা চাইছে জোর করে বাংলা দখল করবে। কিন্তু তা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি, তাঁদের ভোট দেওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, “এসআইআরের সময় যারা আপনাদের পাশে ছিল না, তাদের ভোট দেবেন না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় শাসক দল গোটা দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। ডিলিমিটেশন বিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “ওরা বাংলাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এই বিল বাংলার অস্তিত্বের ওপর আঘাত আনতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বাংলাকে ভাঙতে দেওয়া হবে না।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনওটাই পূরণ হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা কোথায় গেল? দু’লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি কোথায়?” তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি মিথ্যা বললে আমার কান কেটে নেবেন, না হলে আপনিই নাকখত দিন।”
এদিন তিনি এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলার ক্ষতি করা হয়েছে এবং এটি একটি বড় ধরনের দুর্নীতি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই জাতপাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁর কথায়, “আমরা একটাই ধর্ম মানি—মানবধর্ম। আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি, কাউকে আমাদের ধর্ম শেখাতে হবে না।”
ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী সুব্রত দত্ত এবং ছাতনায় প্রার্থী স্বপন মণ্ডলের সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তাও দেন। ভোটের সময় বাইরে খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “যে যা দেবে, খাবেন না। আগে দেখে নেবেন। অনেকের কাজ ২৪ ঘণ্টার, তাই সাবধানে থাকতে হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং “মরণ-বাঁচনের লড়াই”। তিনি দাবি করেন, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আপনাদের নাম যাতে বাদ না পড়ে, অধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য এই ভোট অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। ২০২১-এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করেছি। এখন বলছি, সারা জীবন এই সুবিধা পাবেন।”
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “নববর্ষ আসছে, নতুন ভোর আসছে, নতুন দিন আসছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার দিনও আসছে—গণতন্ত্রের বাক্সে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের তীব্র বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং প্রচার যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট