
ঝাড়গ্রাম, ১৩ এপ্রিল ( হি. স.) : দলবদলের দীর্ঘ এক মাস পর বেলপাহাড়ি ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি রাজীব মাহাতোকে সোমবার সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নূপুর মাহাতোকেও। জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু এদিন এক লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে তৃণমূলের এই পদক্ষেপ ঘিরে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বেলপাহাড়ি ব্লক তৃণমূলের এক নেতার মতে, “এতদিন পর সাসপেন্ড না করে অনেক আগেই বহিষ্কার করা উচিত ছিল। এত দেরিতে ব্যবস্থা নিলে কর্মীদের কাছে কী বার্তা যাবে?”
উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ শিলদায়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন রাজীব মাহাতো। এরপর থেকেই তিনি বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামেন। এমনকি রাজীবের উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও একাধিক ছোট-বড় দলবদল হয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দলবদলের বিষয়টি তৃণমূল নেতৃত্বের অজানা ছিল না।
দেরিতে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হিসেবে জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু জানান, নূপুর মাহাতো পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ায় তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অবস্থান বদল না করায় শেষ পর্যন্ত দলীয় নির্দেশ মেনে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজীব মাহাতো এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল এতদিন কী করছিল? হারের ভয়ে এখন এসব করছে। তৃণমূল নেতাদের আসলে মাথার ঠিক নেই।” ভোটের মুখে ঝাড়গ্রামের রাজনীতিতে এই সাসপেনশন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো