
বাঁকুড়া, ১৪ এপ্রিল (হি.স.): রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যাকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে চার গ্রামে ভোট বয়কটের ডাক ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রানিবাঁধ ব্লকের চালসা, ডুমুরডাঙ্গা, জভি ও বাগদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বেহাল রাস্তা সংস্কার ও পানীয় জলের দাবিতে মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিন গ্রামবাসীদের অভিযোগ করেন , প্রায় এক দশক আগে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তা পাকা করা হলেও বর্তমানে তার অবস্থা চরম বেহাল। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ছোট গাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্স—কেউই ওই রাস্তা ব্যবহার করতে চায় না। এমনকি সাইকেল বা মোটরসাইকেল চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, বছর দুয়েক আগে পাইপলাইন বসানো হলেও এখনও পর্যন্ত এক ফোঁটা পানীয় জলও পৌঁছয়নি গ্রামগুলিতে। একাধিকবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসীরা। সেই কারণেই ভোট বয়কটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, জঙ্গলমহলের এই রানিবাঁধ এলাকা একসময় মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১১ সাল পর্যন্ত এলাকা ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও ২০১৬-র পর রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে এবং বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হন জ্যোৎস্না মাণ্ডি।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। রানিবাঁধের বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, ভোট বয়কট কোনও সমাধান নয়। বিজেপিকে জিতিয়ে দিলে বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদা বলেন, ভোট বয়কট করলে গ্রামবাসীদেরই ক্ষতি হবে। ভোটের পরই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে প্রতিশ্রুতিতে আস্থা হারিয়ে গ্রামবাসীরা আপাতত নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। ভোটের মুখে এই বয়কটের ডাক ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট