(লিড) প্রতীক্ষার অবসান, দিল্লি–দেহরাদূন এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন; পরিকাঠামোকেই দেশের ‘ভাগ্যরেখা’ বললেন নরেন্দ্র মোদী
দেহরাদূন, ১৪ এপ্রিল (হি.স.): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার দিল্লি–দেহরাদূন এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । প্রায় ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অত্যাধুনিক ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ডের দ
(লিড) প্রতীক্ষার অবসান, দিল্লি–দেহরাদূন এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন; অবকাঠামোকেই দেশের ‘ভাগ্যরেখা’ বললেন নরেন্দ্র মোদী


দেহরাদূন, ১৪ এপ্রিল (হি.স.): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার দিল্লি–দেহরাদূন এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । প্রায় ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অত্যাধুনিক ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূন পর্যন্ত যাতায়াতের সময় কমে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় নেমে আসবে, যা আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় নিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করিডর শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, বরং উত্তর ভারতের অর্থনীতি, পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপেও নতুন গতি আনবে।

দিল্লির অক্ষরধাম এলাকা থেকে শুরু হয়ে গাজিয়াবাদ, বাগপত, শামলি, সাহারানপুর সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর অতিক্রম করে দেহরাদূন পর্যন্ত বিস্তৃত এই এক্সপ্রেসওয়েটিকে উত্তর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানী ও সংলগ্ন অঞ্চলে যানজট কমানো, পণ্য দ্রুত পরিবহন এবং শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ মজবুত করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কালী মন্দির থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শোতে মানুষের বিপুল উৎসাহ ও জনসমাগম দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের এই ভালোবাসা ও আশীর্বাদ তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং তা তাঁকে নতুন শক্তি জোগায়।

ভাষণের শুরুতেই তিনি দেশজুড়ে উৎসবের আবহের কথা উল্লেখ করে বৈশাখী, বোহাগ বিহু ও পুথান্ডু উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি আসন্ন চারধাম যাত্রার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধামে যাওয়ার জন্য ভক্তরা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন, আর এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে সেই যাত্রাকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলবে।

পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেমন হাতের রেখা দেখে মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয়, তেমনই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার সড়ক, রেলপথ, বিমানপথ ও জলপথের উপর। এগুলিই দেশের প্রকৃত ‘ভাগ্যরেখা’।” তাঁর মতে, এই ধরনের প্রকল্প শুধু বর্তমানের জন্য সুবিধা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত তৈরি করে।

তিনি আরও জানান, গত এক দশকে দেশে পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের আগে যেখানে বছরে পরিকাঠামোতে ব্যয় ছিল ২ লক্ষ কোটি টাকারও কম, বর্তমানে তা বেড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। শুধু উত্তরাখণ্ডেই আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। যা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।

এই এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছবে, পরিবহন খরচ কমবে এবং শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। করিডরে রয়েছে একাধিক ইন্টারচেঞ্জ, রেলওয়ে ওভারব্রিজ, বড় সেতু এবং আধুনিক ওয়েসাইড সুবিধা। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের জন্য ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডর, একাধিক হাতির জন্য বিশেষ আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে। দাত কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গও নির্মাণ করা হয়েছে, যা যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও দ্রুততর করবে।

পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের পবিত্রতা বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানান, যেন তারা প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ না করেন। আগামী কুম্ভমেলাকে “দিব্য, বিশাল ও স্বচ্ছ” করে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিন ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মূল চেতনা রক্ষা ও শক্তিশালী করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুচ্ছেদ ৩৭০ অপসারণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এর ফলে দেশের সর্বত্র এক সংবিধান কার্যকর হয়েছে এবং উন্নয়নের পথ আরও সুগম হয়েছে।

নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’-এর দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত হওয়ার পর আর বিলম্ব করা উচিত নয়। তিনি জানান, দেশের মা-বোনদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে তিনি এই বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলকে একযোগে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এছাড়াও উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সংবিধানের মূল ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

সব মিলিয়ে দিল্লি–দেহরাদূন এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক প্রকল্প নয়, বরং উত্তর ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচনার পথপ্রদর্শক হিসেবে উঠে আসছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande