
ঝাড়গ্রাম, ১৪ মার্চ (হি.স.): ঝাড়গ্রাম জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে টানা রোড শো করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে নতুন গতি যোগ করলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ শতাব্দী রায়। মঙ্গলবার একদিনেই তিনটি কেন্দ্রে তাঁর এই প্রচার ঘিরে সর্বত্র উপচে পড়া ভিড় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিনের শুরুতে নয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দুলাল মুর্মুর সমর্থনে গোপীবল্লভপুরে রোড শো করেন শতাব্দী রায় । সকাল থেকেই রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমে যায়। দলীয় পতাকা, ঢাক-ঢোল ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই জনসমাগম সংগঠনের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়েছে।
এরপর দুপুরে বিনপুর-১ ব্লকের দহিজুড়িতে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের প্রার্থী মঙ্গল সোরেনের সমর্থনে রোড শো করেন তিনি। রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ে। কর্মী-সমর্থকদের মতে, এই জনজোয়ার ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
দিনের শেষে সাঁকরাইল ব্লকের রোহিণীতে গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের প্রার্থী অজিত মাহাতোর সমর্থনে রোড শো করেন তিনি। এখানেও একই ছবি—দলীয় সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিনে তিনটি কেন্দ্রে এই ধরনের সাড়া শাসকদলের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
রোড শো চলাকালীন শতাব্দী রায় বলেন, “আমাদের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মানুষ ভোটের সিদ্ধান্ত নেবেন।” জঙ্গলমহলের উন্নয়নকেই মূল হাতিয়ার করে নির্বাচনী লড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে তৃণমূল।
এদিন তাঁর প্রচারে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছত্রধর মাহাতোও। তিনি বলেন, “নেত্রী দলকে জেতানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সব মান-অভিমান ভুলে গেছি। এবার লক্ষ্য একটাই—ঝাড়গ্রাম চার শূন্য করা।”
সব মিলিয়ে, একদিনের এই ধারাবাহিক প্রচারে তিনটি কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন এবং জনমত আরও দৃঢ় হয়েছে বলে আশাবাদী দলীয় নেতৃত্ব।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো