রাতে নিখোঁজ মহিলা রোগী, সকালে উদ্ধার মৃতদেহ, ধর্মনগর হাসপাতালে চাঞ্চল্য
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : ধর্মনগরস্থিত উত্তর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনৈকা মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোরে সামনে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষ ও আত্মীয়স্বজনরা। মৃতা
মহিলা রোগীর মৃতদেহ উদ্ধার


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : ধর্মনগরস্থিত উত্তর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনৈকা মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোরে সামনে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষ ও আত্মীয়স্বজনরা।

মৃতা বাসন্তী রিয়াং (৩৫) উত্তর ত্রিপুরার কেদারছড়া এলাকার মনাছড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে রবিবার ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার রাতে স্বাভাবিকভাবেই তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাতের কোনও এক সময়ে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোরবেলায় হাসপাতালের চিকিৎসা কক্ষের বাইরে এক আত্মীয় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে হাসপাতালের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

ঘটনার খবর পেয়ে ধর্মনগর থানার পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়।

এই ঘটনাকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে একজন চিকিৎসাধীন রোগী রাতের বেলায় ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে এতক্ষণ অদৃশ্য থাকলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আত্মীয়রা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande