গত ৫ বছরে হিংসার বদলে যাওয়া ধরণ ও কমিশনের চ্যালেঞ্জ
কলকাতা, ১৪ এপ্রিল ( হি. স.) : রাজ্যে জোরকদমে চলছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। রাজনৈতিক দলগুলি কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। কিন্তু এই প্রচার-উন্মাদনার সমান্তরালে রাজ্যবাসীর মনে দানা বাঁধছে এক গভীর দুঃশ্চিন্তা—এবারের ভোট কী সত্যিই রক্তপাতহীন
ভোট হিংসা


কলকাতা, ১৪ এপ্রিল ( হি. স.) : রাজ্যে জোরকদমে চলছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। রাজনৈতিক দলগুলি কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। কিন্তু এই প্রচার-উন্মাদনার সমান্তরালে রাজ্যবাসীর মনে দানা বাঁধছে এক গভীর দুঃশ্চিন্তা—এবারের ভোট কী সত্যিই রক্তপাতহীন এবং হিংসামুক্ত হবে? পঞ্চায়েত হোক বা লোকসভা, গত কয়েক বছরে বাংলা বারবার প্রত্যক্ষ করেছে রাজনৈতিক হানাহানি, বোমাবাজি আর খুনের রাজনীতি।

বিগত পাঁচ বছরের খতিয়ান দেখলে বোঝা যায়, রাজ্যের জনজীবন বারবার অশান্ত হয়েছে। এই হিংসার কেন্দ্রবিন্দুতে কখনও ছিল সরাসরি রাজনীতি, আবার কখনও অরাজনৈতিক ঘটনাও পেয়েছে ভয়াবহ রূপ। যা রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আলোড়ন ফেলেছে জাতীয় স্তরেও। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলি বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে।

হিংসার এই ধারা কতখানি মর্মান্তিক হতে পারে, তার নজির মুর্শিদাবাদের কালীগঞ্জের উপনির্বাচন। বিজয়োল্লাসের মিছিলে ছোঁড়া বোমায় প্রাণ হারিয়েছিল ছোট্ট তামান্না খাতুন। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল যে, উৎসবের আবহেও হিংসার বীজ কতটা গভীরে প্রোথিত। শুধু রাজনৈতিক ভোট নয়, কখনও ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও উত্তপ্ত হয়েছে বেলডাঙার মতো এলাকা, যেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে।

রাজ্যবাসীর মনে টাটকা হয়ে আছে গত বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী অধ্যায়। ভোট মেটার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খুন, লুট ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছিল। ঘরছাড়া হতে হয়েছিল অগণিত রাজনৈতিক কর্মীকে। প্রশ্ন উঠছে, বঙ্গে হিংসা কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এটি এখন এক স্থায়ী রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে? বোমা আর গুলির শব্দে বীতশ্রদ্ধ সাধারণ মানুষ এখন কেবল শান্তির প্রত্যাশায় দিন গুনছেন।

আগামী দুই দফার নির্বাচনকে অবাধ ও ভয়মুক্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে একাধিক রদবদল করা হয়েছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যারা জেলাগুলিতে নিয়মিত রুট মার্চ চালাচ্ছে।

এত সব তৎপরতার মধ্যেও সংশয় কাটছে না। কারণ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল এবং নির্বাচনী আচরণবিধি চালু থাকার পরও মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ কিংবা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ও ভাঙড়ে সাম্প্রতিক কিছু হিংসাত্মক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি কি বড় কোনও ঝড়ের ইঙ্গিত? কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর করা নজরদারির চাপে পড়েও যেভাবে হিংসার ধরণ পাল্টাচ্ছে, তাতে রাজ্যবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে— শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোট কী কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে?

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande