
বাঁকুড়া, ২ এপ্রিল (হি.স.): নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। সেই আবহেই তালডাংরার বিবড়দা কলেজ মাঠে জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল যাদের আবর্জনার বালতিতে ফেলে দেয়, বিজেপি তাদেরই প্রার্থী করে
বৃহস্পতিবার দুপুরের এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু প্রার্থী জেতানোর জন্য নয়, গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রের বঞ্চনার জবাব দেওয়ার লড়াই। তিনি বিজেপি নেতাদের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে খোলা বিতর্কে আসারও চ্যালেঞ্জ জানা
সভায় অভিষেক বলেন, ২০২১ সালের মতো এবারও মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দেবেন। সভা শুরুর অনেক আগেই মাঠ ভরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই তৃণমূলের প্রতি সমর্থনের প্রমা
বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করে তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পাল্টা হিসেবে তৃণমূল প্রার্থীর কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, গত দেড় বছরে এলাকায় উন্নয়নের সাক্ষী মানু
উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, তালডাংরা বিধানসভায় ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৭৩ হাজার মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। বাঁকুড়া জেলায় এই সংখ্যা ৮ লক্ষেরও বেশি। আবাস যোজনায় তালডাংরায় ১৪,৫৫০ জন পাকা বাড়ি পেয়েছেন। পাশাপাশি নদী বাঁধ নির্মাণ, হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, আইটিআই স্থাপন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার মতো একাধিক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্র সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নে কোনও আর্থিক সহায়তা দেয়নি। কেউ প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছাড়বেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক।
এছাড়া ‘খাদ্য সাথী’, ‘কৃষক বন্ধু’, ‘যুব সাথী’ ও ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
সভা থেকে অভিষেক আগামী ২৩ তারিখে ভোট দিয়ে চতুর্থবারের জন্য ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকারকে ক্ষমতায় ফেরানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে এই জেলায় প্রচারে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ-অভিনেতা দেব। সেই হাইভোল্টেজ প্রচারের ধারাবাহিকতায় এদিনের সভা নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট