
মালে (মালদ্বীপ), ২ এপ্রিল (হি.স.): দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের চিরপরিচিত দ্বৈরথ আবার মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে। শুক্রবার মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশ। ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে স্পোর্টজওয়ার্কজ ইউটিউব চ্যানেলে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দলের লড়াই সব সময়ই টানটান উত্তেজনার হয়েছে। চলতি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বেও ভারত ও বাংলাদেশের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফলে ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভারতের লক্ষ্য এবার খেতাব রক্ষা করা এবং এই স্তরে পঞ্চম সাফ ট্রফি ঘরে তোলা। অন্যদিকে, গত বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতের কাছে হারের বদলা নিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশ।
ভারতের কোচ মহেশ গাওলি প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সচেতন। তিনি জানিয়েছেন, লড়াইটা একেবারেই সহজ হবে না কারণ বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও প্রতিভাবান দল। স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সমর্থক সংখ্যা বেশি থাকলেও ভারতীয় যুব দল সেই চাপ সামলাতে অভ্যস্ত বলে তিনি মনে করেন। কোচের মতে, দলের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো নিজেদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সে মনোনিবেশ করা।
ফাইনালে ওঠার পথে ভারত সেমিফাইনালে ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপট দেখিয়েছে। অন্যদিকে, নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কষ্টার্জিত জয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কোচ গাওলি মনে করেন যে দলের এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধের ঢিলেঢালা ভাব কাটিয়ে দ্বিতীয় অর্ধে যেভাবে ছেলেরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে তিনি গর্বিত।
ভারতীয় আক্রমণের প্রধান ভরসা ওমাং ডোডুম, যিনি তিন গোল করে বর্তমানে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া বিশাল যাদব ও রোহেন সিং চাপামায়ুম দুটি করে গোল করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের গতি এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোর ক্ষমতা ভারতীয় দলকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। গোলরক্ষক সুরজ সিং আহেইবামও পোস্টের নিচে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। সব মিলিয়ে একটি উচ্চমানের ফুটবল লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রীড়ানুরাগীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত