
ঝাড়গ্রাম, ২১ এপ্রিল ( হি. স.) : জঙ্গলমহলের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নজিরবিহীন আক্রমণ শাণালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামের এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাফল্যের সবচেয়ে বড় ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম সফরে এসে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়ার প্রসঙ্গটি তুলে ধরে এদিন তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের আগে ঝাড়গ্রামের পরিস্থিতি এমন ছিল যে রাত ১০টার পর মানুষ ঘর থেকে বেরোতে ভয় পেত। আর আজ প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিন্তে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। অভিষেকের মতে, এটাই প্রমাণ করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে জঙ্গলমহলের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের ছবিটা কতটা বদলেছে।
প্রধানমন্ত্রী যে দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন, সেই দোকানদারের পরিচয় টেনে বিজেপি-কে বিঁধতে ছাড়েননি অভিষেক। তিনি জানান, ওই দোকানদার আদতে বিহারের গয়ার বাসিন্দা। তৃণমূল নেতার প্রশ্ন, যদি উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে এতই উন্নয়ন হয়ে থাকে, তবে সেখানকার যুবকদের রুজি-রুটির টানে কেন পশ্চিমবঙ্গে এসে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, ঝাড়খণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে তাঁর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপির সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যে ঝাড়গ্রামে একসময় বড় বড় নেতারা আসতে ভয় পেতেন, আজ সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা অনায়াসে সভা করছেন এবং রাস্তার খাবার খাচ্ছেন— এটাই উন্নয়নের আসল প্রতিফলন।
পরিশেষে তিনি বলেন, যারা বাংলার সংস্কৃতি ও উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, জনতা তাদের গণতান্ত্রিক পথেই জবাব দেবে। ঝাড়গ্রাম এখন আর অসুরক্ষিত এলাকা নয়, বরং এটি রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি