
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ২২ এপ্রিল (হি.স.): সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় মহকুমার চড়িলাম ব্লকের অন্তর্গত আড়ালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক কাজের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজীব কলোনি এলাকা। ড্রেন ও ব্রিক সলিং নির্মাণের জন্য বরাদ্দ লক্ষাধিক টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজীব কলোনিতে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে তাহেদ মিয়ার পুকুর পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের জন্য ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯২৪ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। একইভাবে বাবুল মিয়ার বাড়ি থেকে সন্ধ্যা রায় মল্লিকের বাড়ি পর্যন্ত আরও একটি ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৭৭ টাকা। দুটি ক্ষেত্রেই প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে ছিলেন আইও তথা জিআরএস বিশ্বজিৎ দত্ত।
অভিযোগ, এই দুটি ড্রেনের একটিতেও কোনও কাজ করা হয়নি, অথচ সম্পূর্ণ অর্থ তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একই এলাকায় একটি ব্রিক সলিং প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থও কাজ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে অর্থ গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীদের আরও অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা চুপিসারে কাজের সাইনবোর্ড লাগিয়ে পালিয়ে যায়। বুধবার সকালে সেই সাইনবোর্ড দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিশ্চিত হন যে কোনও ধরনের নির্মাণ কাজ বাস্তবে হয়নি।
ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা সংবাদমাধ্যমের সামনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, সরকার যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার করে অবিলম্বে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। এমনকি আগামী দিনে জাতীয় সড়ক অবরোধ করার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাশাপাশি, আড়ালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষ কোনও সমস্যা নিয়ে প্রধানের কাছে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দেখা মেলে না। এতে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি উন্নয়নের নামে দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ