বিলোনিয়ায় মাটির ধসে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু
বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ২৫ এপ্রিল (হি.স.) : এক মুহূর্তের বিপর্যয় যেন ছিন্নভিন্ন করে দিল একটি স্বপ্নভরা সংসার। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সিদ্ধিনগর তহশীলের একিনপুর এলাকায় মাটির ধসে চাপা পড়ে করুণ মৃত্যু হল শ্রমজীবী রতন ভ
মর্মান্তিক মৃত্যু


বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ২৫ এপ্রিল (হি.স.) : এক মুহূর্তের বিপর্যয় যেন ছিন্নভিন্ন করে দিল একটি স্বপ্নভরা সংসার। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সিদ্ধিনগর তহশীলের একিনপুর এলাকায় মাটির ধসে চাপা পড়ে করুণ মৃত্যু হল শ্রমজীবী রতন ভৌমিক (৪৫)-এর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

শুক্রবার ছিল অন্য দিনের মতোই এক সাধারণ দিন। সংসারের হাল ধরতে, দু’মুঠো অন্নের যোগান দিতে নিজের বাড়ির পাশেই মাটি কাটার কাজ করছিলেন রতন ভৌমিক। কেউ ভাবতেও পারেনি, সেটাই হবে তাঁর জীবনের শেষ কাজ। আচমকাই ভেঙে পড়ে মাটির স্তূপ—কোনও সুযোগ না দিয়েই তাঁকে গ্রাস করে নেয় নির্মম মৃত্যুর ছায়া। মুহূর্তের মধ্যে নিস্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ, থমকে দাঁড়ায় সময়।

চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার তথা ডিসিএম সঞ্জয় শীল এবং মহকুমা প্রশাসনের কর্মীরা। শুরু হয় প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান। পূর্ত দফতরের ড্রজার দিয়ে মাটি সরানোর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে উদ্ধার করা হয় রতন ভৌমিকের নিথর দেহ। কিন্তু ততক্ষণে জীবন যুদ্ধের শেষ লড়াই হার মেনেছেন তিনি।ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয় নিহারনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

রতন ভৌমিকের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়—এটি একটি পরিবারের ভরসা, আশ্রয়, স্বপ্ন সবকিছুর আকস্মিক পতন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর চলে যাওয়া মানে সংসারের চাকা থমকে যাওয়া। স্ত্রীর বুকফাটা কান্না যেন আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে—“এখন কীভাবে বাঁচব? ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা কীভাবে চলবে?”—এই আর্তনাদে শিউরে উঠছে উপস্থিত সকলেই।

রতন ভৌমিকের ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, আর মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। বাবার স্নেহ, সুরক্ষা আর স্বপ্নের ছায়া হঠাৎ করেই সরে যাওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিসিএম সঞ্জয় শীল শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা। মানুষের চোখে জল, মুখে একটাই কথা—“একটা মুহূর্তেই সব শেষ!” পাশাপাশি, এমন বিপজ্জনক কাজে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande