
অমরপুর (ত্রিপুরা), ২৫ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ছবিমুড়া এবার সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনে জয়ের পর দখল রাজনীতির অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, আর তারই জেরে শনিবার ছবিমুড়ার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাল তিপ্রা মথা সমর্থকরা। ঘটনাকে ঘিরে চরম অনিশ্চয়তায় পর্যটন শিল্প, আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে পর্যটক—সবাই।
১৭ এপ্রিল টিটিএএডিসি নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভিলেজ কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখল নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসছিল। শনিবার সেই ধারাবাহিকতায় সরাসরি পর্যটন দফতরের অধীনস্থ ছবিমুড়া কেন্দ্র দখলের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এতদিন অমরপুর মহকুমা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পর্যটন কেন্দ্র বিজেপি-সহযোগী সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে আচমকাই মথা সমর্থকরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ, স্লোগান—সব মিলিয়ে রীতিমতো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বীরগঞ্জ থানার পুলিশ। দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয় প্রশাসন। তিপ্রা মথা সমর্থকরা অবশেষে তালার চাবি মহকুমা শাসকের কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়ে সরে দাঁড়ালেও, পরিস্থিতির জট এখনও কাটেনি।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটনে। তিপ্রা মথা সমর্থকদের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ছবিমুড়া পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ফলে রাজ্যের ভিতর ও বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে সাধারণ নাগরিকদের তরফে উঠছে একাধিক প্রশ্ন— রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনে কি প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে? সরকারি পর্যটন কেন্দ্র কি রাজনৈতিক দখলের মঞ্চে পরিণত হচ্ছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের জীবিকা ও রাজ্যের পর্যটন শিল্প কি এভাবেই বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিতই দেয় না, বরং রাজ্যের বিনিয়োগ ও পর্যটন সম্ভাবনাকেও বড়সড় ধাক্কা দেয়। ছবিমুড়ার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ