
গোসাবা, ২৮ এপ্রিল (হি. স.) : বুধবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ । মঙ্গলবার সকাল থেকেই সমস্ত এলাকার ডিসি আরসি থেকে ভোট যন্ত্র সহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ভোট কর্মীরা বুথ বা ভোট গ্রহন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এদিকে নদী বেষ্টিত সুন্দরবন এলাকায়ও ভোট বুধবার। ভোটকর্মীরা দুর্গম এলাকায় যাওয়ার জন্য এদিন সকাল সকাল ইভিএম, ভিভিপ্যাড সহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে রওনা দেন।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং নদীবেষ্টিত এলাকার কারণে সুন্দরবন-এর এই অংশে নির্বাচন পরিচালনা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করেই মঙ্গলবার সকাল থেকে দফায় দফায় নদীপথে ভোটযন্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বুথের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ভোটকর্মীরা। আগে দু দিন আগে এই ভোট কর্মীরা দুর্গম জায়গায় ভোট করাতে রওনা দিতেন, কিন্তু এবার কমিশন জানিয়ে দিয়েছে ভোট গ্রহণের আগের দিনই যেতে হবে বুথে। সেই নির্দেশিকা মেনেই সুন্দরবন এলাকায় ভোট গ্রহণ করতে রওনা দেন ভোট কর্মীরা।
গোসাবা ব্লকের বহু বুথে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম নৌকা। সকাল থেকেই নির্দিষ্ট ডিসিআরসি বা ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থেকে প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসাররা তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথের জন্য ইভিএম, ব্যালট ইউনিট, কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভিভিপ্যাট সংগ্রহ করেন। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেই সমস্ত ভোটযন্ত্র নিয়ে তাঁরা জেটিঘাটের দিকে রওনা দেন।
নদীপথে যাত্রা করে দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের বুথগুলিতে পৌঁছাতে হবে তাঁদের। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, যাতে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোট কর্মী নিতিশ রায়, শান্তনু সিনহারা বলেন, “ ভোট গ্রহন আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়, তবে অন্যান্য বার দুদিন আগেই ভোট করাতে যেতাম, এবার একদিন আগে যাচ্ছি। আশাকরি সব শান্তিতেই হবে।”
এদিকে প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট কর্মীরাও অনেকটা খুশি ও নিশ্চিন্ত। তাঁদের দাবি, কমিশন এবার নিরাপত্তার বিষয়ে যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে অনেক বেশি নিজেদেরকে চাপমুক্ত মনে হচ্ছে। ভোটকর্মী অজিত রায়, রুলামিন সর্দার বলেন, “ ভোট মানেই যেন একটা অশান্তির বাতাবরণ, তবে এবার কমিশন যেভাবে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রথম দফা যেভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে তাতে আমরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত। এখন আর নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা