দূষণ রুখতে অ্যাকশন প্ল্যান চালু, পরিষ্কার বাতাসে জোর দিল দিল্লি সরকার
নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল (হি.স.): বায়ুদূষণ রুখতে বড়সড় ও কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শুক্রবার ''বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনা-২০২৬'' বা ‘এয়ার পলিউশন মিটিগেশন অ্যাকশন প্ল্যান-২০২৬’ কার্যকর করার ঘোষণা করেন। ‘মুখ্যমন্ত্রী জনস
দূষণ রুখতে অ্যাকশন প্ল্যান চালু, পরিষ্কার বাতাসে জোর দিল দিল্লি সরকার


নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল (হি.স.): বায়ুদূষণ রুখতে বড়সড় ও কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শুক্রবার 'বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনা-২০২৬' বা ‘এয়ার পলিউশন মিটিগেশন অ্যাকশন প্ল্যান-২০২৬’ কার্যকর করার ঘোষণা করেন। ‘মুখ্যমন্ত্রী জনসেবা সদন’-এ আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের গ্রিন বাজেট ঘোষণার পর পরিবেশ রক্ষা এবং পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থা, ধূলো দূষণ নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং দূষণের রিয়েল-টাইম নজরদারির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

যানবাহনজনিত দূষণ রোধে সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। ‘নো পিইউসি–নো ফুয়েল’ নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে এবং এর জন্য এএনপিআর ক্যামেরা ও ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে বিএস-ভিআই, সিএনজি বা বৈদ্যুতিক নয় এমন পণ্যবাহী গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার বড়সড় বিনিয়োগ করছে। ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩,৭৬০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মেট্রো ও আরআরটিএস নেটওয়ার্কের সঙ্গে ফিডার বাস, ই-অটো ও অন্যান্য পরিবহন যুক্ত করে শেষ মাইল সংযোগ উন্নত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আগামী চার বছরে ৩২ হাজার ইভি চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ধূলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে জল ছিটানো, মিস্ট স্প্রে, অ্যান্টি-স্মগ গানসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হবে। প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার রাস্তার পুনর্গঠন ও উন্নয়ন করা হচ্ছে, যাতে পাকা রাস্তা, সবুজ বেল্ট ও ইউটিলিটি ডাক্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিজ্ঞানভিত্তিক রোড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ধূলো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে ওখলা, ভলস্বা ও গাজীপুর ল্যান্ডফিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ই-ওয়েস্ট ইকো পার্ক গড়ে তোলা হবে। বায়োমাস পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দূষণ পর্যবেক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় ‘গ্রিন ওয়ার রুম’ ও ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার গড়ে তোলা হবে। ওয়ার্ড স্তরে ‘বায়ু রক্ষক’ দল মোতায়েন করা হবে এবং ৩১১ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা হবে, যাতে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

সবুজায়ন বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৭০ লক্ষ গাছ, গুল্ম ও বাঁশ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এক কোটিরও বেশি গাছ লাগিয়ে শহরের পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, এই পরিকল্পনা শুধুমাত্র ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নির্দিষ্ট সময়সীমা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর জবাবদিহিতার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর লক্ষ্য দিল্লির প্রতিটি নাগরিককে পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ প্রদান করা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande