
বরসলা (অসম), ৩ এপ্রিল (হি.স.) : কংগ্রেস সবসময় অনুপ্রবেশ ও দাঙ্গা ঘটানোর কাজ করেছে। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ ধরনের কাজ যারা করে, তাদের শনাক্ত করে ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। আগে যুবকদের অধিকার অনুপ্রবেশকারীরা দখল করত, অসমের মানুষের রেশন লুটে নিত। কিন্তু এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার অসমের প্রতিটি নাগরিককে তাঁর প্রাপ্য অধিকার দেওয়ার গ্যারান্টি দিচ্ছে, বক্তা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
যোগী আদিত্যনাথ আজ শুক্রবার শোণিতপুর জেলার অন্তর্গত বরসলায় তাঁর দ্বিতীয় নিৰ্বাচনী জনসভায় উদাত্ত ভাষণ দিয়েছেন। বরসলা আসনে বিজেপি-প্রার্থী ঋতুবরণ শর্মার সমর্থনে নির্বাচনী সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণে অসমবাসীকে আগামী ৯ এপ্রিল পদ্মফুল প্রতীকে বোতাম টিপে বিজেপি-প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান যোগী।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, কৃষকদের সুরক্ষা এবং বিদেশি আক্রমণকারীদের পরাস্ত করার ইতিহাস সংবলিত এই পবিত্র ভূমিতে কংগ্রেস এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে মিলে পরিচয়ের সংকট তৈরি করেছে। এই সংকট কোনও একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না। কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ-এর অঘোষিত সমঝোতার কারণে অসমিয়া জাতি, মাটি ও কন্যাদের সামনে পরিচয়ের সংকট দেখা দিয়েছিল। তারা তোষণ নীতির মাধ্যমে অসমিয়া পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে এই সংকট তৈরি করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অসমের নাগরিকদের অধিকার এবং নারীদের সুযোগ-সুবিধা অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে লুট করা হয়েছে, অসমিয়া সংস্কৃতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এবং প্রথমে সর্বানন্দ সনোয়াল, পরে ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি নেতৃত্বধীন জোট সরকার গঠনের পর অসম এখন চা-এর পাশাপাশি চিপ উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।
আদিত্যনাথ বলেন, আগে গরিবদের রেশন অনুপ্রবেশকারীরা খেয়ে ফেলত। এখন অসমের মানুষ রেশন, উজ্জ্বলা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যসেবা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, যুবক-যুবতীরা চাকরি পাচ্ছেন। চা-বাগানের শ্রমিক, কারিগর ও যুবকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজও দেওয়া হচ্ছে।
বিজেপি অসমিয়া সংগীত-সংস্কৃতি, মহাপুরুষ, মহানায়ক ও বীর যোদ্ধাদের সম্মান জানাচ্ছে। এখন অসমে উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের এক অসাধারণ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। মা কামাখ্যা, শ্রীমন্ত শংকরদেবের জন্মভূমি এবং অন্যান্য উপসনাস্থলের ভূমি সংরক্ষণের কাজ নতুনভাবে শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আরও বলেন, কংগ্রেস অনুপ্রবেশ ও দাঙ্গা ঘটাত, কিন্তু বিজেপি এমন কাজ যারা করে তাদের বের করে দেয়। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা ২৫ কোটি হলেও গত ৯ বছরে সেখানে “না কারফিউ, না দাঙ্গা, সব ভালো”।
তিনি বলেন, ৫০০ বছরে যা সম্ভব হয়নি, তা অযোধ্যায় ভব্য রামমন্দির নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এখন উগ্রবাদ, নকশালবাদ বা বিচ্ছিন্নতাবাদ নেই, রাস্তাঘাটে নামাজও পড়া হয় না।
বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদ নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ অনুপ্রবেশকারীদের ভোট চায়, তাই তারা নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারে না, এমন অভিযোগও করেছেন তিনি।
যোগী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী যতবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসেছেন, কংগ্রেসের ৬০ বছরের শাসনকালে কোনও প্রধানমন্ত্রী এতবার আসেননি। গত ১১ বছরে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭৮ বার এবং অসমে ৩৬ বার সফর করেছেন। যার ফলে এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে উত্তরপূর্বের প্রতিটি রাজ্যে সড়ক, রেল, বিমান ও জলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। আগে মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অভাব ছিল। কিন্তু এখন এইমস, আইআইএম, আইআইটি ও এনআইটির মতো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
শেষে তিনি বলেন, কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ-এর ওপর ভরসা করা যায় না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার অসমবাসীদের নিরাপত্তা, সেবা, সুশাসন, সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেবে।
সভায় তিনি অসমকে ভারতের গৌরবময় পবিত্র ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে সিঙরি গুপ্তেশ্বর, আহোম রাজবংশের লাচিত বড়ফুকন, ব্রহ্মপুত্র নদ ও মা কামাখ্যার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে যোগী আদিত্যনাথকে এক নজর দেখার জন্য বহু যুবক গাছে উঠেছিলেন। সভায় “বুলডজার বাবা কি জয়” স্লোগানও উঠেছে। তিনি ‘জাপি’ পরে অসমিয়া ঢোল বাজিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস