অসমকে লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদের ভূমি হতে দেওয়া হবে না : যোগী আদিত্যনাথ
এনডিএ-ই পারে অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন রোধ করতে, অসমের বরপেটায় নিৰ্বাচনী সমাবেশে বলেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বরপেটা (অসম), ৩ এপ্রিল (হি.স.) : এনডিএ-র সংকল্প হলো অসমকে লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদের ভূমি হতে দেওয়া যাবে না। এখানে অনুপ্রবে
বরপেটায় নিৰ্বাচনী সমাবেশে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ


এনডিএ-ই পারে অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন রোধ করতে, অসমের বরপেটায় নিৰ্বাচনী সমাবেশে বলেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী

বরপেটা (অসম), ৩ এপ্রিল (হি.স.) : এনডিএ-র সংকল্প হলো অসমকে লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদের ভূমি হতে দেওয়া যাবে না। এখানে অনুপ্রবেশ চলতে দেওয়া হবে না। কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ-এর অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে জনবিন্যাস পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। একে একে সব অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, অসমের বরপেটায় বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে স্বভাবসুলভ ভাষায় বলেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

আজ শুক্রবার অসমে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর প্রার্থী অগপ নেতা দীপককুমার দাসের সমর্থনে বরপেটায় এক বিশাল জনসভায় প্ৰদত্ত ভাষণে কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন যোগী। বরপেটা আসনে কংগ্রেস-প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দলটি নির্বাচনের আগেই মাঠ ছেড়ে পালিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর সমালোচনা করে যোগী বলেন, এই দলকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়ার সময় এসে গেছে। তাঁর অভিযোগ, এই দল অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে এবং তাদের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ একসঙ্গে এমনভাবে কাজ করছে, যা রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিপন্ন করতে পারে।

যোগী বলেন, কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের শাসন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস শুধুমাত্র অনুপ্রবেশ, সহিংসতা ও দাঙ্গাকে উৎসাহিত করেছে, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তিনি অসমবাসীর কাছে আবারও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিতে হবে, অসমের জনবিন্যাস পরিবর্তন হতে দেওয়া যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অসমকে অনুপ্রবেশের ঘাঁটি হতে দেওয়া হবে না এবং দাঙ্গাবাজদের ধরে ধরে বের করে দেওয়া হবে। কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই ভারত ও ভারতীয়তাকে অপমান করেছে। অসমে অনুপ্রবেশের জননী এআইইউডিএফ, এমন অভিযোগও করেছেন তিনি। অনুপ্রবেশকারীদের ভরসায় তারা ক্ষমতায় আসতে চায়, আর কংগ্রেস তাদের সহযোগী হয়ে অসমের সংস্কৃতির সঙ্গে ছেলেখেলা করছে। অন্যদিকে এনডিএ সরকার অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করে অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করছে।

তিনি অসমবাসীদের রঙালি বিহু উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভারতের গৌরবের ভূমি অসম, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে মা কামাখ্যা দর্শনে আসেন। এখানকার আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ‘এক ভারত-শ্রেষ্ঠ ভারত’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বৈষ্ণব পরম্পরায় শ্রীমন্ত শংকরদেব ও মাধবদেবের পবিত্র ভূমি একতা, ভক্তি ও মানবতার বার্তা বহন করে।

অসমের কাজিরঙা জাতীয় উদ্যান একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিশ্বখ্যাত এবং জীববৈচিত্র্যের অনন্য কেন্দ্র। আহোম রাজবংশ এই ভূমিতে বিদেশি আক্রমণকারীদের পরাজিত করে সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। আহোম বীর লাচিত বড়ফুকনের সাহস ও বীরত্ব ভারতীয় যুবসমাজের অনুপ্রেরণা।

তিনি বলেন, অসম তার পরিশ্রম ও শ্রমের মাধ্যমে চায়ের খ্যাতি বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন চায়ের পাশাপাশি চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে অসম।

কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তাদের শাসনকালে ভারত রত্ন শুধুমাত্র একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অথচ অসমের সংস্কৃতির প্রতীক ভূপেন হাজরিকাকে ২০১৯ সালে মোদী সরকার এবং গোপীনাথ বরদলৈকে ১৯৯৯ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার ভারত রত্ন প্রদান করেছে।

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ৬০ বছরের শাসনে অসমে অরাজকতা, দাঙ্গা, কারফিউ, অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং নিরাপত্তা দুর্বল হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উন্নত সড়ক, রেল, বিমান ও জলপথ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। আইআইটি, আইআইএম, এইমস সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, যেখানে যেখানে এনডিএ সরকার রয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের সম্মান বজায় রাখা হচ্ছে। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৫০০ বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে।

উত্তরপ্রদেশ প্রসঙ্গে যোগী বলেন, এখন সেখানে দাঙ্গা, কারফিউ ও মাফিয়া নেই, “নো কারফিউ, নো দাঙ্গা, সব ভালো”। কেউ দাঙ্গা করার চেষ্টা করলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়।

শেষে তিনি বলেন, কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ অসমের সংস্কৃতির বহু ক্ষতি করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের বসিয়ে মানুষের অধিকার, রেশন, বাড়ি ও জমি দখল করেছে। অসমবাসীর কাছে তিনি আহ্বান জানান, এ ধরনের ষড়যন্ত্র রুখতে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande