বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য সমন্বয়ের কেন্দ্র উজ্জয়িনী : ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভোপাল, ৩ এপ্রিল (হি.স.): উজ্জয়িনী এমন এক পবিত্র ভূমি, যেখানে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে—এমনই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে আয়োজিত ‘মহাকাল: দ্য মাস্টার অফ টাইম
বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য সমন্বয়ের কেন্দ্র উজ্জয়িনী : ধর্মেন্দ্র প্রধান


ভোপাল, ৩ এপ্রিল (হি.স.): উজ্জয়িনী এমন এক পবিত্র ভূমি, যেখানে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে—এমনই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে আয়োজিত ‘মহাকাল: দ্য মাস্টার অফ টাইম’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই প্রাচীন নগরী শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, বরং ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরার এক জীবন্ত প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কেন্দ্র—যেমন কাশি, কাঞ্চিপুরম , পুরী বা উজ্জয়িনী —আসলে এমন ‘জীবন্ত গবেষণাগার’, যেখানে বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দর্শনের সম্মিলিত বিকাশ ঘটেছে। তাঁর মতে, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা একে অপরের পরিপূরক এবং এই সমন্বয় ভারতীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি।

মহাকাল মন্দিরের একটি বিশেষ আচার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশাখ মাসের শুরু থেকে শিবলিঙ্গের উপর নিরবচ্ছিন্ন জলধারা প্রবাহিত করার প্রথা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং প্রাকৃতিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন ভারতীয় সমাজ প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে গভীর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান রাখত।

ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, উজ্জয়িনী প্রাচীনকাল থেকেই সময় নির্ধারণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। কর্কটক্রান্তি রেখা এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে এবং একসময় এখান থেকেই বিশ্বে সময় গণনার সূচনা হতো। এই প্রেক্ষিতে তিনি ‘গ্রিনউইচ মীন টাইম’-এর পরিবর্তে ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, উজ্জয়িনী শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, বিজ্ঞান, গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদরা এখান থেকেই নক্ষত্রের গতি নির্ণয় ও সময় পরিমাপের কাজ করতেন।

নীতিআয়োগের সদস্য ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ভি. কে. সারস্বত বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান ও বৈদিক জ্ঞানের সমন্বয়ই ভবিষ্যতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জলবায়ু পরিবর্তন, শক্তি সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বদেশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের উপর জোর দেন তিনি।

প্রখ্যাত চিন্তাবিদ সুরেশ সোনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে সময় বা ‘কাল’-এর ধারণা অত্যন্ত গভীর ও বৈজ্ঞানিক। প্রকৃতি, ঋতুচক্র ও মহাজাগতিক গতির সঙ্গে এই সময় গণনা অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

এদিন অনুষ্ঠানে ‘বিদ্যার্থী বিজ্ঞান মন্থন’-এর ওয়েবসাইট, ব্রোশিওর ও পুস্তিকা উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি উজ্জয়িনীতে ‘সম্রাট বিক্রমাদিত্য হেরিটেজ’ প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং সিংহস্থ ২০২৮ উপলক্ষে প্রায় ৭০১ কোটি টাকার বাইপাস সড়ক নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়।

এছাড়া ১৫ কোটিরও বেশি ব্যয়ে নির্মিত নতুন উজ্জয়িনীতে সায়েন্স সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়, যেখানে আধুনিক বিজ্ঞান গ্যালারি, আউটডোর সায়েন্স পার্ক, ইনোভেশন ল্যাব এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যবস্থা রয়েছে।

সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উজ্জয়িনীকে বৈশ্বিক সময় নির্ধারণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ধারণা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি স্যাটেলাইট নির্মাণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন অতিথিরা এবং তাঁদের উৎসাহিত করেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande