
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ৩০ এপ্রিল (হি.স.) : প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা—পানীয় জল ও বিদ্যুৎ। আর সেই দু’টিই যখন একসাথে হারিয়ে যায়, তখন মানুষের অসহায়তা কতটা গভীর হতে পারে, তারই এক জ্বলন্ত চিত্র ফুটে উঠল ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের সোনামাড়া এলাকায়।
টানা সাতদিন ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকট এবং সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কার্যত মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছিলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে ভেঙে পড়া একটি বিদ্যুতের খুঁটি যেন অন্ধকার আর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল গোটা এলাকায়। ঘরে ঘরে নেমে আসে অন্ধকার, থমকে যায় জল তোলার পাম্প—ফলে এক ফোঁটা পানীয় জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়।
বারবার বিদ্যুৎ দফতরে ফোন, অভিযোগ, অনুরোধ—সবই যেন শূন্যে মিলিয়ে যায়। এমনকি স্থানীয় কাউন্সিলর সোমা ঘোষ সূত্রধর নিজে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানানোর পরও কোনও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এলাকাবাসীরা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা নাগাদ, দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে পড়ে রাস্তায়। কৈলাসহর-আগরতলা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন শতাধিক মানুষ। রাস্তায় আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন, চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরা। মুহূর্তেই উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় গোটা এলাকায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কৈলাসহর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও টিএসআর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু হয় তৎপরতা। তবে বিক্ষুব্ধ মানুষের একটাই দাবি—“বিদ্যুৎ ও জল চাই, এখনই চাই”।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আশার আলো হয়ে এগিয়ে আসেন কৈলাসহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা রানি দেবরায়। অবরোধস্থলে পৌঁছে তিনি ধৈর্য সহকারে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের কষ্ট ও ক্ষোভের কথা মন দিয়ে শোনেন। সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত কর্মী পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চেয়ারপার্সনের উদ্যোগে বিদ্যুৎ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। আশ্বাস দেওয়া হয়, সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হবে এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরবে পানীয় জলের সরবরাহও।
যদিও বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা—পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। প্রয়োজনে ফের রাস্তা অবরোধ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তবে দুর্দিনে প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিশেষ করে চেয়ারপার্সন চপলা রানি দেবরায়ের মানবিক উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে সোনামাড়ায়। এলাকাবাসীরা তাঁর এই সহমর্মিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ