
হাইলাকান্দি (অসম), ৫ এপ্রিল (হি.স.) : ভোটের অধিকার বিক্রির নয়, বিশ্বাসের — ভোটের প্রাক্কালে কড়া বার্তা দিয়েছে হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন। আগামী ৯ এপ্রিল অসম বিধানসভা নির্বাচন। তাই ভোটের মুখে ভোটারদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে অসমের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
অসমের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জারিকৃত নির্দেশিকার উদ্ধৃতি দিয়ে হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ভোটারদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা তথাকথিত ‘নিবন্ধন’ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নির্বাচন কমিশনের মতে তা ‘করাপ্ট প্র্যাকটিস’-এর আওতায় পড়ে। কোনও রাজনৈতিক দল বা তাদের প্রতিনিধিরা ভোটারদের সরকারি সুবিধার জন্য ‘নিবন্ধন’ করতে পারে না। এই ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকার ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কার্যকর হয়। ফলে ভোটের আগে কোনও দলের তরফে এ ধরনের ‘নিবন্ধন’ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর কোনও আইনি বৈধতা নেই।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে অনেক ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘গ্যারান্টি কার্ড’ বা বিভিন্ন ফর্ম বিলি করা হচ্ছে, যেখানে নির্বাচনের পর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি কোনও বৈধ আইনি নথি নয় এবং আদালতেও এর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। বরং এ ধরনের কার্যকলাপ সরাসরি ঘুষ বা দুর্নীতির আওতায় পড়ে, যা দণ্ডনীয় অপরাধ।
নির্বাচন দফতর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ‘করাপ্ট প্র্যাকটিস’ হিসেবে গণ্য হবে। এতে যুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, প্রতিশ্রুতি প্রদানকারী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী, সকলেই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হতে পারেন।
ভোটারদের সতর্ক করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বলা হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ভোটাররা যেন তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ভোটার আইডি নম্বর, আধার নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল নম্বর কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রতিনিধির সঙ্গে ভাগ না করেন। পাশাপাশি, আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখানো হলে কোনও ফর্ম বা কার্ডে স্বাক্ষর না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচারিত মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য আপলোড না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমন-কি সংবাদপত্র বা প্রচারপত্রে প্রকাশিত নম্বরে ‘মিসড কল’ দেওয়ার মাধ্যমেও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ভোট একটি সাংবিধানিক অধিকার — এটি কোনও লেনদেন নয়। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয় এবং কোনও দলই জানতে পারে না কে কাকে ভোট দিয়েছেন। ফলে ভোটের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ধারণা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। একই সঙ্গে ভোটারদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন করা হয়েছে। যে কোনও ভোটার নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন। কোনও ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে অস্বীকার করার অধিকারও রয়েছে ভোটারদের।
এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য একাধিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘cVIGIL’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ছবি বা ভিডিও সহ অভিযোগ জানানো যাবে। এছাড়া ১৯৫০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করা যাবে। স্থানীয় জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার, ফ্লাইং স্কোয়াড টিম বা নিকটবর্তী থানায়ও অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব।
আইনি দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ অনুযায়ী ভোটে প্রভাব ফেলতে ঘুষ বা প্রলোভন দেওয়া গুরুতর অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমন-কি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনী জয়ও বাতিল হতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে কোনও বেআইনি কৌশল বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে ভোটারদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস