
মৌসুমী সেনগুপ্ত
কলকাতা, ৯ এপ্রিল, (হি.স.): ভারতের নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্ভয় ও বাধাহীন পরিবেশে স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রচার চালানো হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে কোমর বেঁধে এই প্রতিবাদ শুরু করেছেন সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ। নির্বাচন কমিশনকে তাঁদের কেউ লিখেছেন ‘নির্যাতন কমিশন’, কেউ লিখেছেন, ‘চর্বাসন কমিশন’।
‘স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রচার’-এর আর্জি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কমিশনের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী লিখেছেন, “ইসিআই একটি নির্ভয় ও বাধাহীন পরিবেশে স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে।” তাঁর বিরোধিতায় সরব হয়েছে সংখ্যালঘুদের অনেকে।
ফারহান আখতার ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “ভয় মুক্ত, বাধা মুক্ত, আর বৈধ ভোটার মুক্ত। এটাই স্বচ্ছ নির্বাচন।” সাহেব সুমন লিখেছেন, “বৈধ ভোটারের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়ে আবার ভাষণ দিচ্ছেন!” ইমানুর রহমান লিখেছেন, “বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে কখনোই ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচন হতে পারে না। ”
ঊর্দূ হরফে লেখা কোনও একটি নামধারী লিখেছেন, “বৈধ ভোটার বাদ কেন?” মামুন শেখ লিখেছেন, “যদি বৈধ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট কেড়ে নেন তাহলে আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছি সংবিধান অনুসারে কি পদক্ষেপ করবে?” মহম্মদ আব্দুল আসফাক লিখেছেন, “চর্বাসন কমিশন নিজেই যদি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে তাহলে আর কিসের দরকার ? গণতন্ত্রের লজ্জা ...”
হামিদুর রহমান লিখেছেন, “ধিক্কার জানাই স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
মুকসেদ আলি লিখেছেন, “৬০ লক্ষ ভোটারের নাম লিষ্ট থেকে বাদ দিয়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে দিলেন!”
মহম্মদ জাকারিয়া লিখেছেন, “গোপনে যারা চুরি করে তাদের চোর বলে,কিন্তু দিনে দুপুরে যারা প্রকাশ্যে চুরি করে তাদের ডাকাত বলে,ডাকাত জানে তার মাথার উপরে সরদার আছে তার কিছু হলে, সে বুঝবে।” রফিকুল ইসলাম লিখেছেন, “আমার বাপ দাদা চৌদ্দগুষ্টি ভারতের আর এখন এসে আমাদের ভোট ডিলিট। তোমরা বলেছ বৈধ ভোটার বাদ হবে না আমরা ১০০ শতাংশ বৈধ ভোটার আমার দাদুরা যখন থেকে ভোট হয়েছে তখন থেকে ভোট দিচ্ছে আর এখন আমরা অবৈধ!”
জিয়ারুল শেখ নির্বাচন কমিশনকে লিখেছেন ‘নির্যাতন কমিশন’। নাসির উদ্দিন লিখেছেন, “বলছি যে জ্ঞানেশ কুমার সাহেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদ দিলে কেমন হয়!” মহম্মদ রিয়াজুদ্দিন লিখেছেন, “বাংলার লক্ষ লক্ষ ভোটার এর নাম কাটা হলো যেনো সেটা আগে জবাব দে!”
এই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগুরুদের একটা বড় অংশও সংখ্যালঘুদের সমর্থন করে বিরোধিতা করেছেন নির্বাচন কমিশনের অবাধ ভোটদানের আবেদনের।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত