
নয়াদিল্লি, ১ মে (হি. স.) : মহারাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিন পৃষ্ঠার ওই দীর্ঘ পত্রে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্য সরকার অর্থনৈতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে, মহারাষ্ট্রের ‘বিকশিত মহারাষ্ট্র’ রূপকল্প তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে রাষ্ট্র নির্মাণে মহারাষ্ট্রের প্রগতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র বরাবরই সমাজ সংস্কার, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং শিল্পোন্নয়নের মূল কেন্দ্র হিসেবে দেশকে দিশা দেখিয়েছে। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, ডঃ বি.আর. আম্বেদকর, লোকমান্য তিলক এবং বীর সাভারকরের মতো মণীষীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, তাঁদের আদর্শ আজও দেশকে অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি মারাঠি ভাষাকে ২০২৪ সালে 'ধ্রুপদী ভাষা'র মর্যাদা প্রদান এবং মহারাষ্ট্রের দুর্গগুলিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাকে এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর পত্রে ২০২৬ সালকে মহারাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বছর অহল্যাবাই হোলকারের ৩০০তম জন্মজয়ন্তী, মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের ২০০তম জন্মজয়ন্তী, সন্ত গডগে বাবার ১৫০তম জন্মজয়ন্তী এবং আরএসএস-এর ১০০ বছর পূর্তির মতো ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানগুলি উদযাপিত হচ্ছে। এই আয়োজনগুলো সামাজিক ন্যায়বিচার, নারী ক্ষমতায়ন এবং সাংস্কৃতিক অস্মিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উন্নয়নে সর্বদা পাশে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রেল, মেট্রো, বিমানবন্দর এবং বন্দর প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। বিশেষত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মহারাষ্ট্রের রেল প্রকল্পগুলির জন্য ২৪,০০০ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। গডচিরৌলি, অমরাবতী, ধুলে এবং নন্দুরবারের মতো অঞ্চলগুলি এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে বলেও তিনি চিঠিতে জানান।
২০২৯, ২০৩৫ এবং ২০৪৭ সালকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করেছে, তার প্রশংসা করেন মোদী। পাশাপাশি নাসিক ও ত্র্যম্বকেশ্বরে আসন্ন কুম্ভমেলার প্রস্তুতির জন্য রাজ্য সরকারকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। তবে চিঠিতে মহারাষ্ট্রের কিছু দুঃখজনক ঘটনারও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে প্রবীণ নেতা অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে জনসেবায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও রাজমাতা জিজাবাইয়ের আশীর্বাদ স্মরণ করে ‘জয় মহারাষ্ট্র’ বার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি