
আগরতলা, ১৪ মে (হি.স.) : সামরিক প্রতিষ্ঠান, আধা সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং অসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ফলেই ত্রিপুরা আজ এক নিরাপদ, সহনশীল এবং আদর্শ রাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
বৃহস্পতিবার আগরতলায় ২১ সেক্টর আসাম রাইফেলসের সদর দফতরের আলফা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মিলিটারি সিভিল ফিউশন’ শীর্ষক আলোচনাচক্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাজ্যপাল বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিপুরায় দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার ফলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ সুদৃঢ় হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশ সামরিক সহযোগিতা, কৌশলগত পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের জন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করছে। এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের প্রতি আস্থা, দক্ষতা এবং সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৌশলগত দক্ষতা আজ বিশ্বে বিশেষভাবে স্বীকৃত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজ্যপাল জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এই আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, 'অপারেশন সিন্দুর' ভারতের সামরিক প্রস্তুতি, সমন্বিত কৌশল এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় অংশ নেন ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক অলক কুমার চক্রবর্তী, ৭৩ মাউন্টেন ব্রিগেডের কমান্ডার ডিকে সিং, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব অভিষেক সিং এবং ২১ সেক্টর আসাম রাইফেলসের ডিআইজি ও কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার নিশান চান্দেল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে সামরিক এবং অসামরিক সংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এতে রাজ্যের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আরও সুসংহত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ