প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অনেক ভাল-জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার
আগরতলা, ১৪ মে (হি.স.) : বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি জানান, দেশে বা রাজ্যে বর্তমানে জ্বালানির কোনও সংকট নেই, তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা


আগরতলা, ১৪ মে (হি.স.) : বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি জানান, দেশে বা রাজ্যে বর্তমানে জ্বালানির কোনও সংকট নেই, তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানি সাশ্রয় ও অপচয় রোধ করা প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার একটি সরকারি কর্মসূচির ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের উপর চাপ পড়তে পারে। এরই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত সরকারও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে সচেতন পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির কনভয়ে যানবাহনের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই পথে হাঁটছে রাজ্য সরকারও। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে এনেছেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া প্রশাসনিক স্তরেও সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি দফতরগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ কর্মীকে রোস্টার ভিত্তিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের মতে, এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই গ্রহণ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। তবে “প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর”—এই নীতিকে সামনে রেখে আগাম সতর্কতা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। জ্বালানি অপচয় রোধ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পর রাজ্যবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং সচেতনতার বার্তা। অন্যদিকে, কিছু মহলের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কালোবাজারিরা পেট্রোপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় পেট্রোল-ডিজেলের মজুত বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande