
নয়াদিল্লি, ১৫ মে (হি.স.): পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'–এ তিনি অভিযোগ করে লেখেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কটের অন্যতম বড় কারণ হল মোদী সরকারের “লিডারশিপ ক্রাইসিস”, দূরদর্শিতার অভাব এবং অযোগ্যতা। তাঁর দাবি, “এটি মোদী সরকারের তৈরি করা সঙ্কট”, যার খেসারত সাধারণ মানুষকে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের বাড়তি দামের মাধ্যমে দিতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ও তেল বাঁচানোর পরামর্শকেও কটাক্ষ করেন খাড়্গে। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব গোটা অর্থনীতিতে পড়ে। শিল্প, কৃষি ও গৃহস্থের বাজেট—সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে খাড়্গে অভিযোগ করেন, যুদ্ধ শুরুর সময় সরকার সব কিছু স্বাভাবিক বলে দাবি করেছিল এবং কংগ্রেসের তোলা প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টে আমেরিকার “পারমিশন” ও “অ্যালাউ” শব্দের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা হয়েছে।
খাড়্গে অভিযোগ করে প্রশ্ন তোলেন, মার্চ মাসে রুশ তেল কেনার জন্য যে ৩০ দিনের ছাড় আমেরিকা দিয়েছিল, তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন কেন পড়ছে? তাঁর দাবি, মোদী সরকারই দেশকে “অনুমতি চাওয়ার পরিস্থিতি”-তে এনে দাঁড় করিয়েছে।
এছাড়াও কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকলেও কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে কোনও স্বস্তি দেয়নি। বরং গত ১০ বছরে কেন্দ্রীয় কর থেকে ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা আয় করেছে সরকার। তাহলে এখন কেন সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য